ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতেই নির্ধারিত হোক আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো শক্তির বাংলাদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে সরকার নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘জুলাই একদিনে তৈরি হয়নি’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করেছে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আন্দোলন, বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীদের ত্যাগ এই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, যখন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সহিংস ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

‘জুলাই কার—এই বিতর্কে গেলে সবার ক্ষতি’

গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই কার—এই প্রশ্নে বিভক্ত হলে শেষ পর্যন্ত জুলাই সবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।” জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা হারিয়েছে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর তার দাফন হয়েছে দিল্লিতে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর ওপর জোর

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল সংস্কার কমিশনের আলোচনা যথেষ্ট নয়; সংসদের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন। তিনি ১৮তম সংশোধনীকে “শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সবাই দায়ী থাকবে।

গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দাবি

বক্তব্যে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া বহু মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন.

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আদালতেই নির্ধারিত হোক আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো শক্তির বাংলাদেশে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে সরকার নয়; বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘জুলাই একদিনে তৈরি হয়নি’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করেছে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আন্দোলন, বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীদের ত্যাগ এই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, যখন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন সহিংস ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

‘জুলাই কার—এই বিতর্কে গেলে সবার ক্ষতি’

গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই কার—এই প্রশ্নে বিভক্ত হলে শেষ পর্যন্ত জুলাই সবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।” জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা হারিয়েছে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর তার দাফন হয়েছে দিল্লিতে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর ওপর জোর

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল সংস্কার কমিশনের আলোচনা যথেষ্ট নয়; সংসদের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন। তিনি ১৮তম সংশোধনীকে “শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সবাই দায়ী থাকবে।

গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দাবি

বক্তব্যে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া বহু মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন.