ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবর থেকেই শুরু স্থানীয় সরকার ভোট, এক বছরে শেষ করার পরিকল্পনা: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :

সরকার আগামী অক্টোবর মাস থেকেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময়সূচি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, গত জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যত্র কটূক্তির বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তবে বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এসব বক্তব্য সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অপরাধের আওতায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এ সময় তিনি কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের বাইরে অবস্থান করে যারা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের কার্যক্রমে দেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তিনি দেখছেন না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অক্টোবর থেকেই শুরু স্থানীয় সরকার ভোট, এক বছরে শেষ করার পরিকল্পনা: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:১৮:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

সরকার আগামী অক্টোবর মাস থেকেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সময়সূচি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তথ্য উপদেষ্টা জানান, গত জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের খাদ্য ব্যবসায়ীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সাভারে এনসিপির জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যত্র কটূক্তির বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তবে বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এসব বক্তব্য সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অপরাধের আওতায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এ সময় তিনি কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের বাইরে অবস্থান করে যারা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের কার্যক্রমে দেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তিনি দেখছেন না।