ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই

কাগজের খবর ডেস্ক:

শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই

চুরি হওয়া ফোন দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে। এ সময় ফোন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের অভিযোগ, শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শফিক মোড় এলাকার বাড়িতে গিয়ে তার কেনা আইফোনটি নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। এ সময় ফোনটি চট্টগ্রাম থেকে চুরি হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আবুল হাসনাত আয়ান তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (শফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন। এর আগের দিন ফোন করে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যও নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আয়ানের ভাষ্য, এসআই তাকে জানান, চট্টগ্রামে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ সময় আয়ান ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান। পাশাপাশি এসআইয়ের সামনেই দোকানে ফোন করে সেটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপরও এসআই তাকে বলেন, ফোনটি যেহেতু তার কাছে পাওয়া গেছে, তাই সমস্যাটি তারই। এ সময় আয়ানের মামা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এসআইকে বলেন, যে দোকান থেকে ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে, সেখানে অভিযান চালানো উচিত। আয়ান বৈধভাবে ফোনটি কিনেছেন এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আয়ানের অভিযোগ, পরে তাকে ফোনসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান এসআই।

এ বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি সিআর মামলা করেন। মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি থেকে তাকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবেন? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারেন না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীর আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই

আপডেট সময় ০৫:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চুরি হওয়া ফোন দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে। এ সময় ফোন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের অভিযোগ, শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শফিক মোড় এলাকার বাড়িতে গিয়ে তার কেনা আইফোনটি নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। এ সময় ফোনটি চট্টগ্রাম থেকে চুরি হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আবুল হাসনাত আয়ান তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (শফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন। এর আগের দিন ফোন করে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যও নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আয়ানের ভাষ্য, এসআই তাকে জানান, চট্টগ্রামে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ সময় আয়ান ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান। পাশাপাশি এসআইয়ের সামনেই দোকানে ফোন করে সেটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপরও এসআই তাকে বলেন, ফোনটি যেহেতু তার কাছে পাওয়া গেছে, তাই সমস্যাটি তারই। এ সময় আয়ানের মামা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এসআইকে বলেন, যে দোকান থেকে ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে, সেখানে অভিযান চালানো উচিত। আয়ান বৈধভাবে ফোনটি কিনেছেন এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আয়ানের অভিযোগ, পরে তাকে ফোনসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান এসআই।

এ বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি সিআর মামলা করেন। মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি থেকে তাকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবেন? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারেন না।