ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল বাংলাদেশের জালে

কাগজের খবর ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল বাংলাদেশের জালে

সব দিক থেকেই উত্তর কোরিয়ার তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এর ওপর ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় নিয়ে একাদশ সাজান কোচ পিটার বাটলার। শুরু থেকেই এর প্রভাব দেখা যায় মাঠে। এলোমেলো ফুটবল, পাসে ভুল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতায় লজ্জাজনক হারের সম্মুখীন হলো বাংলাদেশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচটি ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনিয়র নারী ফুটবল দল নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড ছিল ৯-০। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ১০ গোল হজম করল বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভুল পাস, রক্ষণে সমন্বয়হীনতা এবং গোলরক্ষকের দুর্বলতায় বারবার বিপদে পড়তে হয় দলকে। নিজেদের অর্ধেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তৃতীয় মিনিটে উত্তর কোরিয়া প্রথমবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। কিন্তু এরপর আর নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল হজম করে তারা। ২০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় গোলটি আসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের বড় ভুল থেকে। শর্ট কর্নার থেকে পাওয়া বলে বক্সে ক্রস করেন কোরিয়ার খেলোয়াড়। বলটি ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকারের নাগালের মধ্যেই ছিল এবং তিনি ক্লিয়ার করার জন্য পা বাড়ালেও শেষ মুহূর্তে পা সরিয়ে নেন। গোলরক্ষক মিলি আক্তারও নিজের জায়গা থেকে নড়েননি। ফলে বলটি দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

তৃতীয় গোলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষককে অসহায় দেখা যায়। বল তার পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে ঢুকে যায়। পুরো ম্যাচেই রক্ষণভাগের ভুলের পাশাপাশি মিলি আক্তারের পারফরম্যান্সেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা গেছে।

১৮ মিনিটের মধ্যেই চার গোল হজম করার পর রক্ষণে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ পিটার বাটলার। ২৩তম মিনিটে অর্পিতা বিশ্বাসকে তুলে শিউলি আজিমকে মাঠে নামানো হয়। তার আগমনের পর বাংলাদেশের রক্ষণ কিছুটা গুছিয়ে ওঠে।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকেও আবার একের পর এক ভুল করে বাংলাদেশ। শেষ ১০ মিনিটে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় উত্তর কোরিয়া। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ঠিকমতো মার্ক করতেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিনটি পরিবর্তন করেন বাটলার। দুই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন ও সুরভি আক্তার আরফিনের জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মনিকা চাকমাকে নামানো হয়। আক্রমণভাগে মোসাম্মাৎ সুলতানার পরিবর্তে মাঠে আসেন ঋতুপর্ণা চাকমা। পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা গতি ও সংগঠিত ভাব দেখা যায়।

ফলে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজমের হার কমে আসে। প্রথম ৪৫ মিনিটে সাত গোল খাওয়া বাংলাদেশ বিরতির পর আরও তিন গোল হজম করে। ৫১ মিনিটে উত্তর কোরিয়া অষ্টম গোল করে। ৬০ মিনিটে আসে নবম গোল। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দশম গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে উত্তর কোরিয়া।

১০-০ গোলের এই পরাজয়ের ফলে একদিকে এশিয়ান কাপে হতাশাজনক শুরু হলো বাংলাদেশের, অন্যদিকে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ল দলটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল বাংলাদেশের জালে

আপডেট সময় ০৫:৫২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব দিক থেকেই উত্তর কোরিয়ার তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এর ওপর ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় নিয়ে একাদশ সাজান কোচ পিটার বাটলার। শুরু থেকেই এর প্রভাব দেখা যায় মাঠে। এলোমেলো ফুটবল, পাসে ভুল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতায় লজ্জাজনক হারের সম্মুখীন হলো বাংলাদেশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাচটি ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনিয়র নারী ফুটবল দল নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছে। এর আগে দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড ছিল ৯-০। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ১০ গোল হজম করল বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভুল পাস, রক্ষণে সমন্বয়হীনতা এবং গোলরক্ষকের দুর্বলতায় বারবার বিপদে পড়তে হয় দলকে। নিজেদের অর্ধেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তৃতীয় মিনিটে উত্তর কোরিয়া প্রথমবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। কিন্তু এরপর আর নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল হজম করে তারা। ২০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় গোলটি আসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের বড় ভুল থেকে। শর্ট কর্নার থেকে পাওয়া বলে বক্সে ক্রস করেন কোরিয়ার খেলোয়াড়। বলটি ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকারের নাগালের মধ্যেই ছিল এবং তিনি ক্লিয়ার করার জন্য পা বাড়ালেও শেষ মুহূর্তে পা সরিয়ে নেন। গোলরক্ষক মিলি আক্তারও নিজের জায়গা থেকে নড়েননি। ফলে বলটি দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

তৃতীয় গোলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষককে অসহায় দেখা যায়। বল তার পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে ঢুকে যায়। পুরো ম্যাচেই রক্ষণভাগের ভুলের পাশাপাশি মিলি আক্তারের পারফরম্যান্সেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা গেছে।

১৮ মিনিটের মধ্যেই চার গোল হজম করার পর রক্ষণে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন কোচ পিটার বাটলার। ২৩তম মিনিটে অর্পিতা বিশ্বাসকে তুলে শিউলি আজিমকে মাঠে নামানো হয়। তার আগমনের পর বাংলাদেশের রক্ষণ কিছুটা গুছিয়ে ওঠে।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকেও আবার একের পর এক ভুল করে বাংলাদেশ। শেষ ১০ মিনিটে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় উত্তর কোরিয়া। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ঠিকমতো মার্ক করতেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিনটি পরিবর্তন করেন বাটলার। দুই ডিফেন্ডার আইরিন খাতুন ও সুরভি আক্তার আরফিনের জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মনিকা চাকমাকে নামানো হয়। আক্রমণভাগে মোসাম্মাৎ সুলতানার পরিবর্তে মাঠে আসেন ঋতুপর্ণা চাকমা। পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা গতি ও সংগঠিত ভাব দেখা যায়।

ফলে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজমের হার কমে আসে। প্রথম ৪৫ মিনিটে সাত গোল খাওয়া বাংলাদেশ বিরতির পর আরও তিন গোল হজম করে। ৫১ মিনিটে উত্তর কোরিয়া অষ্টম গোল করে। ৬০ মিনিটে আসে নবম গোল। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দশম গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে উত্তর কোরিয়া।

১০-০ গোলের এই পরাজয়ের ফলে একদিকে এশিয়ান কাপে হতাশাজনক শুরু হলো বাংলাদেশের, অন্যদিকে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ল দলটি।