ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ, বাড়ল ভ্রমণ কোটার সীমা

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকা: বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এত দিন এই সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যমান ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের নীতিমালা সংশোধন করে এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বসবাসকারী প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো একটি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। ফলে আগের তুলনায় একজন ভ্রমণকারী অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ব্যয় ও প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন বিবেচনা করেই ভ্রমণ কোটার সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিশুদের ক্ষেত্রে সীমা কত

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নতুন প্রাপ্তবয়স্ক সীমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তারা এই সুবিধা পাবে। অর্থাৎ একজন শিশুর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

নগদ ডলারের সীমা অপরিবর্তিত

তবে ভ্রমণ কোটার পরিমাণ বাড়লেও নগদ মার্কিন ডলার সঙ্গে নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই থাকছে। একজন ভ্রমণকারী নতুন ১৮ হাজার ডলারের বার্ষিক কোটার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নোট সঙ্গে নিতে পারবেন।

অবশিষ্ট অর্থ কার্ডসহ অনুমোদিত অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে ব্যবহার করা যাবে।

৫০ শতাংশ বাড়ল ভ্রমণ কোটা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্কদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১২ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ডলার হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় এই সুবিধা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সীমার ফলে চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে বিদেশ যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে।

তবে ভ্রমণ কোটার সুবিধা নিতে ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য আইন, বিধিবিধান ও শর্ত বহাল থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদেশ ভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের সুযোগ, বাড়ল ভ্রমণ কোটার সীমা

আপডেট সময় ০২:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা: বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্ক একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এত দিন এই সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যমান ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের নীতিমালা সংশোধন করে এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বসবাসকারী প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো একটি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। ফলে আগের তুলনায় একজন ভ্রমণকারী অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ব্যয় ও প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন বিবেচনা করেই ভ্রমণ কোটার সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিশুদের ক্ষেত্রে সীমা কত

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। নতুন প্রাপ্তবয়স্ক সীমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তারা এই সুবিধা পাবে। অর্থাৎ একজন শিশুর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

নগদ ডলারের সীমা অপরিবর্তিত

তবে ভ্রমণ কোটার পরিমাণ বাড়লেও নগদ মার্কিন ডলার সঙ্গে নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই থাকছে। একজন ভ্রমণকারী নতুন ১৮ হাজার ডলারের বার্ষিক কোটার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নোট সঙ্গে নিতে পারবেন।

অবশিষ্ট অর্থ কার্ডসহ অনুমোদিত অন্যান্য মাধ্যমে বিদেশে ব্যবহার করা যাবে।

৫০ শতাংশ বাড়ল ভ্রমণ কোটা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্কদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১২ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ডলার হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় এই সুবিধা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সীমার ফলে চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে বিদেশ যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে।

তবে ভ্রমণ কোটার সুবিধা নিতে ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য আইন, বিধিবিধান ও শর্ত বহাল থাকবে।