মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথাব্যথা
ব্যস্ততার মাঝে হয়তো দেখবেন আপনার মাথা দপদপ করছে। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, মানসিক চাপে থাকলে মাথাব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের একটি সাধারণ কারণ হলো মানসিক চাপ।
মানসিক চাপ অন্যান্য ধরনের মাথাব্যথার কারণও হতে পারে বা সেগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি অনেকের মধ্যে মাথাব্যথার একটি সাধারণ কারণ। মানসিক চাপ সামলানোর জন্য সহজ কিছু পদক্ষেপ নিলে তা মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
আরামদায়ক কিছু কৌশল মাথাব্যথাসহ মানসিক চাপের লক্ষণগুলো কমাতে পারে। আনন্দদায়ক কাজের জন্য সময় বের করা আরাম করার একটি উপায়। গান শুনুন, নাচুন, খেলাধুলা করুন, বই পড়ুন বা পোষা প্রাণির সঙ্গে খেলুন। আরাম করার জন্য সময় আলাদা করে রাখুন, তা দিনে মাত্র ১০ মিনিট হলেও চলবে।
দিনের মধ্যে অতিরিক্ত কাজ বা দায়িত্ব ঢোকানোর পরিবর্তে আপনার দৈনন্দিন করণীয় কাজের তালিকা ছোট করুন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, কোন কাজটি সত্যিই করা দরকার, কোনটি অপেক্ষা করতে পারে এবং কোনটি আপনার করার প্রয়োজন নেই।
মাথাব্যথা প্রতিরোধের এবং কখনও কখনও এর চিকিৎসার একটি প্রমাণিত উপায় হলো ব্যায়াম। ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তিও দেয়। ধীরে ধীরে শরীর গরম করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। হঠাৎ করে তীব্র ব্যায়াম করলে মাথাব্যথা হতে পারে।
ফল, শাক-সবজি এবং শস্যদানা সমৃদ্ধ খাবার আপনাকে আরও শক্তি দিতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে এগুলো রাখুন আপনার খাবারের তালিকায়।
মানসিক চাপের কারণে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু খুব কম ঘুম মানসিক চাপ সামলানোকে আরও কঠিন করে তোলে। ঘুমের অভাব আমাদের শরীরে চাপ সৃষ্টি করে এবং অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধান করা অথবা কঠিন সময়ে তাদের সাহায্য নেওয়া আপনাকে মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। একজন থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলাও সহায়ক হতে পারে।
প্রতিদিন আপনার করণীয় কাজের তালিকা হালনাগাদ করুন। কর্মক্ষেত্রে এবং বাড়িতে, উভয় ক্ষেত্রেই। যা পারেন তা অন্যদের দিয়ে করান এবং বড় প্রকল্পগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিন। বাকি কাজগুলো একবারে একটি করে সম্পন্ন করুন। সব কাজের চাপ নিজে একা নেবেন না।
আপনার দিনটিকে গুছিয়ে নিন। সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো আগে থেকে অনুমান করুন। আপনার পরিকল্পনাটি নমনীয় রাখার চেষ্টা করুন, যাতে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলে আপনার পথ পরিবর্তন করা সহজ হয়।
যে বিষয়গুলো আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে চিন্তা না করার চেষ্টা করুন। আপনার মনোভাব পরিবর্তন করুন। ইতিবাচক কথাবার্তার মাধ্যমে নিজেকে উৎসাহিত করুন। নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচকভাবে দেখলে তা আপনাকে চাপপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
যদি আপনি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন, তবে মনকে শান্ত করার জন্য কিছুটা সময় নিন। কয়েকটি ধীরগতির স্ট্রেচিং বা দ্রুত হাঁটা আপনার হাতে থাকা কাজের জন্য নতুন করে শক্তি জোগাতে পারে। অথবা নিজেকে একটি শান্ত, আরামদায়ক জায়গায় কল্পনা করে মানসিক ছুটি কাটাতে পারেন।
হাসি মানসিক চাপ কমানোর একটি দারুণ উপায়। হাসলে এন্ডোরফিন নামক প্রাকৃতিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা আপনাকে ভালো অনুভব করতে এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সাহায্য করবে। মজার সিনেমা দেখার বা মজার বই পড়ার চেষ্টা করুন।
আপনার দৈনন্দিন রুটিন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু চেষ্টা করুন। ছুটি বা সপ্তাহান্তের ভ্রমণ আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

























