ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রয়োজনীয় সিজার নিরুৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এ আয়োজিত এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে নবজাতকদের জন্মের পরপরই শালদুধ (কলোস্ট্রাম) খাওয়ানোর বিষয়ে পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অপুষ্টি বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য, অনেক নবজাতক জন্মের পর প্রয়োজনীয় শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সুষম খাদ্যের ঘাটতিও দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর পড়ছে, ফলে হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসকের ভূমিকা শুধু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ ও সহমর্মিতাও সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে তোলে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের যক্ষ্মা (টিবি) পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টিবি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কিডনি রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ধাপে ধাপে ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে নিপসমের গবেষক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুসুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অপ্রয়োজনীয় সিজার নিরুৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এ আয়োজিত এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে নবজাতকদের জন্মের পরপরই শালদুধ (কলোস্ট্রাম) খাওয়ানোর বিষয়ে পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের অপুষ্টি বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য, অনেক নবজাতক জন্মের পর প্রয়োজনীয় শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সুষম খাদ্যের ঘাটতিও দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর পড়ছে, ফলে হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসকের ভূমিকা শুধু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ ও সহমর্মিতাও সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে তোলে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের যক্ষ্মা (টিবি) পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টিবি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কিডনি রোগীরা স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ধাপে ধাপে ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে নিপসমের গবেষক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুসুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।