ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত পুলিশ সদস্য; নিরাপত্তায় ইন্টারনেট ও মেট্রো সেবায় বিধিনিষেধ

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)- নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যন্তর মন্তরের মূল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সীমিত সময়ের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের অভিযোগ, পার্ক হোটেল সংলগ্ন এলাকায় কিছু বিক্ষোভকারী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

সহিংসতা এড়াতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও মাঠে নামানো হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়াতে নিষেধ করেন। পরে পুলিশের একটি লাউডস্পিকার সংযুক্ত বাস থেকে একজন স্বেচ্ছাসেবক মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তার স্বার্থে যন্তর মন্তর কেন্দ্রিক প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও কোন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকেই ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর থেকেই রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলনের বিস্তার এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় অবস্থানের কারণে দিল্লির পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনকারীদের কৌশলের ওপরই নির্ভর করবে সংকট কোন দিকে এগোবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত পুলিশ সদস্য; নিরাপত্তায় ইন্টারনেট ও মেট্রো সেবায় বিধিনিষেধ

আপডেট সময় ০৪:২৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)- নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যন্তর মন্তরের মূল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সীমিত সময়ের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে দুইজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের অভিযোগ, পার্ক হোটেল সংলগ্ন এলাকায় কিছু বিক্ষোভকারী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

সহিংসতা এড়াতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও মাঠে নামানো হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়াতে নিষেধ করেন। পরে পুলিশের একটি লাউডস্পিকার সংযুক্ত বাস থেকে একজন স্বেচ্ছাসেবক মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তার স্বার্থে যন্তর মন্তর কেন্দ্রিক প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করলেও কোন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকেই ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর থেকেই রাজধানীর রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলনের বিস্তার এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় অবস্থানের কারণে দিল্লির পরিস্থিতি এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনকারীদের কৌশলের ওপরই নির্ভর করবে সংকট কোন দিকে এগোবে।