ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল গান্ধী সন্ধ্যায় মুক্ত

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও একই কর্মসূচি থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদেরও ছেড়ে দেয় পুলিশ।

জানা যায়, বিকেলে লোককল্যাণ মার্গ এলাকায় শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচির সময় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের উত্তর দিল্লির ছত্রসাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

আটকের পর রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়ে কিছু সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যার দিকে সব নেতাকে মুক্তি দেওয়া হলে সেই ধোঁয়াশার অবসান ঘটে।

বিক্ষোভে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের জবাব সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে এবং সংসদে এ বিষয়ে আলোচনাও করতে চাইছে না। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

পরে আরেকটি পোস্টে দেশবাসীর প্রতি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত। ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাইকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে আকস্মিক অবস্থান কর্মসূচি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে কংগ্রেস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অংশ।

মুক্তির পর কংগ্রেস নেতারা এই আটককে বিরোধী কণ্ঠ দমনের প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন সংসদ ভবন অভিমুখে শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের পদযাত্রা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিচার দাবিতেই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। একই দাবিতে মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের কঠোর অবস্থান তাদের আন্দোলনের সংকল্প আরও দৃঢ় করেছে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল গান্ধী সন্ধ্যায় মুক্ত

আপডেট সময় ০৩:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও একই কর্মসূচি থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদেরও ছেড়ে দেয় পুলিশ।

জানা যায়, বিকেলে লোককল্যাণ মার্গ এলাকায় শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচির সময় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের উত্তর দিল্লির ছত্রসাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

আটকের পর রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়ে কিছু সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যার দিকে সব নেতাকে মুক্তি দেওয়া হলে সেই ধোঁয়াশার অবসান ঘটে।

বিক্ষোভে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের জবাব সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে এবং সংসদে এ বিষয়ে আলোচনাও করতে চাইছে না। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

পরে আরেকটি পোস্টে দেশবাসীর প্রতি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে দেশের ভবিষ্যতের ওপর আঘাত। ন্যায়বিচারের দাবিতে সবাইকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে আকস্মিক অবস্থান কর্মসূচি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তবে কংগ্রেস এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অংশ।

মুক্তির পর কংগ্রেস নেতারা এই আটককে বিরোধী কণ্ঠ দমনের প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন সংসদ ভবন অভিমুখে শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের পদযাত্রা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিচার দাবিতেই মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। একই দাবিতে মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী ও সমর্থক বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের কঠোর অবস্থান তাদের আন্দোলনের সংকল্প আরও দৃঢ় করেছে।