গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিআরডিবিকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকার রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামো নয়, জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করেই প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন করতে হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হলেও সরকারের লক্ষ্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত রচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিআরডিবির হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
এর আগে সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন এবং একটি র্যালিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা তাদের সংগ্রাম ও সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সমবায়ী ও সুফলভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।






















