ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার ‘যুদ্ধের জ্বালানি’তে ইউক্রেনের বড় আঘাত, সেন্ট পিটার্সবার্গে তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলা

নিজস্ব সংবাদ :

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এই স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তির অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই অভিযানে ক্রনশতাঁত এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এসব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওতে হামলার পর লক্ষ্যস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্ডার বেগলভ শহরে বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, তেল টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যে তেল টার্মিনালটি আঘাতের শিকার হয়েছে, সেটি বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দাবি, এসব অভিযানের ফলে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে চাপের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মস্কো শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও ইউক্রেন তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোবালিভ বলেন, শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রুশ সেনাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে।

রাশিয়ার এই দাবিকে ব্যঙ্গ করে জেলেনস্কি বলেন, যদি শহরটি সত্যিই রাশিয়ার দখলে থাকে, তাহলে পুতিন সেখানে গিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তার মতে, বাস্তব পরিস্থিতি রুশ দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ও সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনের ছোড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। মস্কোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক রুশ হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সমস্যাগুলো থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতেই কিয়েভ এ ধরনের হামলা ও প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাশিয়ার ‘যুদ্ধের জ্বালানি’তে ইউক্রেনের বড় আঘাত, সেন্ট পিটার্সবার্গে তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ০২:৩২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এই স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তির অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই অভিযানে ক্রনশতাঁত এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এসব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। তার প্রকাশ করা ভিডিওতে হামলার পর লক্ষ্যস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্ডার বেগলভ শহরে বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, তেল টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যে তেল টার্মিনালটি আঘাতের শিকার হয়েছে, সেটি বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের দাবি, এসব অভিযানের ফলে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে চাপের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মস্কো শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও ইউক্রেন তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোবালিভ বলেন, শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রুশ সেনাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে।

রাশিয়ার এই দাবিকে ব্যঙ্গ করে জেলেনস্কি বলেন, যদি শহরটি সত্যিই রাশিয়ার দখলে থাকে, তাহলে পুতিন সেখানে গিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তার মতে, বাস্তব পরিস্থিতি রুশ দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ও সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনের ছোড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। মস্কোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক রুশ হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সমস্যাগুলো থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতেই কিয়েভ এ ধরনের হামলা ও প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।