ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমান–জাইকা বৈঠক: জ্বালানি সহায়তা বাড়ানোর ইতিবাচক ইঙ্গিত, তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের আশাবাদ

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানের অর্থায়নে চলমান গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প, জ্বালানি সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বৈঠকের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার এমআরটি (মেট্রোরেল) প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের সহায়তা ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

নৌ-নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট উপহার দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে জাপানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে দেশটি সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমান–জাইকা বৈঠক: জ্বালানি সহায়তা বাড়ানোর ইতিবাচক ইঙ্গিত, তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের আশাবাদ

আপডেট সময় ০৩:১৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানের অর্থায়নে চলমান গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প, জ্বালানি সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বৈঠকের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার এমআরটি (মেট্রোরেল) প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের সহায়তা ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

নৌ-নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট উপহার দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে জাপানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে দেশটি সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।