ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান, টোল আদায়ের ইঙ্গিত; যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সতর্কবার্তা

নিজস্ব সংবাদ :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করতে নতুন অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে টোল আদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা অনড়। প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও এই অবস্থান বজায় রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই এখন তেহরানের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও ওয়াশিংটনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, সমঝোতা স্মারকে থাকা প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন না করলে তেহরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষায়, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। কলিবফ দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ইরান ও ওমান উভয়েরই এখতিয়ার রয়েছে। তবে এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার কোনো অবস্থাতেই ছাড়বে না তেহরান।

সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে টোল ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোন জাহাজ কখন এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করছে ইরান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরবে তেহরান। এ বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী নয় ইরানি প্রতিনিধিদল।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় শুরু হতে পারে। তবে টোলের হার বা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরুতে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করেছিল। সে সময় দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, পারস্য উপসাগর ত্যাগকারী কয়েকটি জাহাজ থেকে নৌ-চলাচলসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি আদায় করা হয়েছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজে নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান, টোল আদায়ের ইঙ্গিত; যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০২:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করতে নতুন অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে টোল আদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা অনড়। প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও এই অবস্থান বজায় রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই এখন তেহরানের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও ওয়াশিংটনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, সমঝোতা স্মারকে থাকা প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন না করলে তেহরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষায়, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। কলিবফ দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ইরান ও ওমান উভয়েরই এখতিয়ার রয়েছে। তবে এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার কোনো অবস্থাতেই ছাড়বে না তেহরান।

সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে টোল ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোন জাহাজ কখন এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রয়েছে বলে দাবি করছে ইরান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরবে তেহরান। এ বিষয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহী নয় ইরানি প্রতিনিধিদল।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় শুরু হতে পারে। তবে টোলের হার বা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরুতে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করেছিল। সে সময় দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, পারস্য উপসাগর ত্যাগকারী কয়েকটি জাহাজ থেকে নৌ-চলাচলসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি আদায় করা হয়েছিল।