ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, তফসিল ৪৫ দিন আগেই

নিজস্ব সংবাদ :

আগামী অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট জনবল প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা চলছে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহের পর প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে আচরণবিধির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও মতামত আহ্বান করা হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ভোটার তালিকা, ব্যালট বাক্স, নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচন কমিশনাররা ভোটগ্রহণের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য করেই কমিশনের সব প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের তফসিল অন্তত ৪৫ দিন আগে ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কীভাবে ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়েও কমিশনে আলোচনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে পুরোপুরি বাইরে রাখা হবে না। আচরণবিধি ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত আচরণবিধিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধন করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, তফসিল ৪৫ দিন আগেই

আপডেট সময় ০২:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

আগামী অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট জনবল প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন ব্যয় কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা চলছে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত সংগ্রহের পর প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে আচরণবিধির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও মতামত আহ্বান করা হয়েছে।

আলোচনায় উঠে আসে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ভোটার তালিকা, ব্যালট বাক্স, নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচন কমিশনাররা ভোটগ্রহণের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য করেই কমিশনের সব প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের তফসিল অন্তত ৪৫ দিন আগে ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কীভাবে ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়েও কমিশনে আলোচনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে পুরোপুরি বাইরে রাখা হবে না। আচরণবিধি ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ জনগণও আচরণবিধির খসড়া নিয়ে মতামত দিতে পারবেন। গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত আচরণবিধিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধন করা হবে।