ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে জনকল্যাণের প্রতিফলন রয়েছে, এটি জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বার্তা: আন্দালিব রহমান পার্থ

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী। তাঁর মতে, বাজেটে ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই দুই সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে সরকার যথাসময়ে সংসদ ও দেশের জনগণকে বিস্তারিত জানাবে।

বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং ওষুধ শিল্পে সহায়তার মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পার্থ বলেন, এই বাজেটের মূল বার্তা হলো—সরকার জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রেও এই দুই নীতিই ছিল মূল ভিত্তি। এতিম, অসহায়, নারী ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এসব উদ্যোগে আল্লাহর বরকত কামনা করেন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা মেধাবীরাও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিভা বিকাশে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে পার্থ জাতীয় পর্যায়ে যাকাতগ্রহীতাদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, প্রতিটি সংসদীয় আসনে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হলে দেশ-বিদেশের দাতারা সহজেই তাদের যাকাত পৌঁছে দিতে পারবেন। এ জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর পাশাপাশি যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষায়িত একটি টেলিভিশন চ্যানেল চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিনে পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর সম্ভব না হলেও সরকারকে ধাপে ধাপে এ খাতের সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থায়নের প্রসার ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার মতো দেশও এ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। তাঁর মতে, কিছু ব্যাংকের অনিয়মের দায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের। ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির কারণে এনবিআরের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের চার মাসের সময়ে বড় ধরনের ব্যাংক কেলেঙ্কারি বা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে সরকারকে একটি কার্যকর কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, বিপুল গ্যাসের মজুতের কারণে জেলাটিকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোলার গ্যাসসম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে।

এ লক্ষ্যে তিনি ভোলা বিমানবন্দর নির্মাণ, আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পৃথক ভোলা উন্নয়ন কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে বাজেটকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সবাই আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাজেটে জনকল্যাণের প্রতিফলন রয়েছে, এটি জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বার্তা: আন্দালিব রহমান পার্থ

আপডেট সময় ০১:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী। তাঁর মতে, বাজেটে ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই দুই সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে সরকার যথাসময়ে সংসদ ও দেশের জনগণকে বিস্তারিত জানাবে।

বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং ওষুধ শিল্পে সহায়তার মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পার্থ বলেন, এই বাজেটের মূল বার্তা হলো—সরকার জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রেও এই দুই নীতিই ছিল মূল ভিত্তি। এতিম, অসহায়, নারী ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এসব উদ্যোগে আল্লাহর বরকত কামনা করেন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা মেধাবীরাও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিভা বিকাশে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে পার্থ জাতীয় পর্যায়ে যাকাতগ্রহীতাদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, প্রতিটি সংসদীয় আসনে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হলে দেশ-বিদেশের দাতারা সহজেই তাদের যাকাত পৌঁছে দিতে পারবেন। এ জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর পাশাপাশি যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষায়িত একটি টেলিভিশন চ্যানেল চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিনে পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর সম্ভব না হলেও সরকারকে ধাপে ধাপে এ খাতের সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থায়নের প্রসার ঘটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার মতো দেশও এ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। তাঁর মতে, কিছু ব্যাংকের অনিয়মের দায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের। ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির কারণে এনবিআরের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের চার মাসের সময়ে বড় ধরনের ব্যাংক কেলেঙ্কারি বা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে সরকারকে একটি কার্যকর কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, বিপুল গ্যাসের মজুতের কারণে জেলাটিকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোলার গ্যাসসম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে।

এ লক্ষ্যে তিনি ভোলা বিমানবন্দর নির্মাণ, আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পৃথক ভোলা উন্নয়ন কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন।

বক্তব্যের শেষাংশে বাজেটকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সবাই আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।