ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ লাখের স্কুল ভবন ভেঙে ১ লাখে বিক্রি

কাগজের খবর ডেস্ক:

২২ লাখের স্কুল ভবন ভেঙে ১ লাখে বিক্রি

তিন বছর আগে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্যবহার উপযোগী একটি বিদ্যালয় ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ভবনের সাথে পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ভবন দুটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ভেঙে ফেলা ভবনের জায়গাতেই নির্মিত হচ্ছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চারতলা ভিতের একতলা একাডেমিক ভবন। নির্মাণের মাত্র তিন বছর পেরোতেই ব্যবহার উপযোগী ভবন ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একতলা দুটি ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) ও জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

কিন্তু নির্মাণের তিন বছর পেরোতেই চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে বিদ্যালয়ের পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও ভাঙা হয়।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, ভবন দুটির ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী দরদাতার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওই অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, প্রধান শিক্ষক তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে ভবন দুটি ভাঙার কাজ চলে। ভবন ভাঙার সময় মাইকিং করা হয়েছিল বলেও কেউ কেউ জানান। তবে ভবন ভাঙার আগে সরকারি অনুমোদন বা নিলামসংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত নন। তাদের দাবি, মাত্র তিন বছর আগে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন এত অল্প সময়ে কেন ভাঙা হলো এবং নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অর্থ কোথায় গেল তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, তিনি দেড় থেকে দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টির দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকট থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আগের একতলা ভবন ও পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ভবন ভাঙার আগে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

২২ লাখের স্কুল ভবন ভেঙে ১ লাখে বিক্রি

আপডেট সময় ০৬:১৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

তিন বছর আগে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্যবহার উপযোগী একটি বিদ্যালয় ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ভবনের সাথে পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ভবন দুটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ভেঙে ফেলা ভবনের জায়গাতেই নির্মিত হচ্ছে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন চারতলা ভিতের একতলা একাডেমিক ভবন। নির্মাণের মাত্র তিন বছর পেরোতেই ব্যবহার উপযোগী ভবন ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একতলা দুটি ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) ও জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

কিন্তু নির্মাণের তিন বছর পেরোতেই চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে বিদ্যালয়ের পুরোনো একটি আধাপাকা ভবনও ভাঙা হয়।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, ভবন দুটির ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী দরদাতার মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে ওই অর্থ বিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, প্রধান শিক্ষক তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিক দিয়ে ভবন দুটি ভাঙার কাজ চলে। ভবন ভাঙার সময় মাইকিং করা হয়েছিল বলেও কেউ কেউ জানান। তবে ভবন ভাঙার আগে সরকারি অনুমোদন বা নিলামসংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত নন। তাদের দাবি, মাত্র তিন বছর আগে সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন এত অল্প সময়ে কেন ভাঙা হলো এবং নির্মাণসামগ্রী বিক্রির অর্থ কোথায় গেল তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ বলেন, তিনি দেড় থেকে দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টির দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে জায়গার সংকট থাকায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আগের একতলা ভবন ও পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ২৬ আগস্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ভবন ভাঙার আগে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।