হৃদয়ের অপরাজিত ৩৫০ রান, ভাঙল ৭৭ বছরের রেকর্ড
টেপো এনটুলির বল মিড উইকেটে ঠেলে সিঙ্গল নিয়ে তাওহিদ হৃদয় পূর্ণ করলেন ৩৫০ রান। এবার আর কোনো উদযাপন নয়, বরং আম্পায়ারে দিকে ‘থামস আপ’ দেখালেন। সঙ্কেত দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ম্যারাথন ব্যাটিংয়ের এখানেই সমাপ্তি। ইনিংস ঘোষণা করলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক।
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়া ইনিংসটিতে শেষ পর্যন্ত আউট হলেন না হৃদয়। অপরাজিত রয়ে গেলেন ৪৮১ বলে ৩৫০ রানে। মাঠের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিপক্ষ ফিল্ডাররা এসে অভিনন্দন জানালেন তাকে, পিঠ চাপড়ে দিলেন, হাত মেলালেন হাতে। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সতীর্থদের সবাই ড্রেসিং রুমের সামনে এসে বরণ করে নিলেন তাকে।
পচেফস্ট্রুমের এই মাঠেই ২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন হৃদয়। সেখানেই এবার রচিত হলো তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়।
১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে মেরিলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটার ডেনিস কম্পটন দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনিতে নর্থ-ইষ্টার্ন দলের বিপক্ষে মাত্র ১৮১ মিনিটে ৩০০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন। দীর্ঘ ৭৭ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সফরকারী দলের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল সেই ইনিংস।
শুধু কম্পটনের রেকর্ডই নয়, এই ইনিংসের মাধ্যমে আরও বেশ কয়েকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই টাইগার ব্যাটার। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দেশের বাইরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং কমিটি দলের বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের কোনো ব্যাটারের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি হিসেবে এতদিন সেটিই ছিল সর্বোচ্চ। শাহরিয়ারের সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার আরও বড় ইতিহাস লিখলেন হৃদয়।
বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্বও এখন তার। এর আগে এই তালিকায় ছিলেন রাকিবুল হাসান ও তামিম ইকবাল। দুজনই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়েছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রান করেছিলেন রাকিবুল। আর ২০১৯-২০ মৌসুমে বিসিএলে ইস্ট জোনের হয়ে ৩৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তামিম।
তামিমের ৩৩৪ রানই এতদিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল। পচেফস্ট্রুমে ম্যাচের চতুর্থ দিন চা-বিরতির পর সেই রেকর্ডও ভেঙে দেন হৃদয়। ৩৫০ রানে পৌঁছানোর পর দলের ইনিংস ঘোষণা করেন তিনি। ৪৮১ বলের ইনিংসে ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা।
ফলে হৃদয়ের ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও গড়েছে রেকর্ড। ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের যেকোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড করেছে তারা। এর আগে ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় দলের করা ৬৩৮ রান ছিল সর্বোচ্চ।
এক ইনিংসেই একাধিক রেকর্ড গড়ে তাওহিদ হৃদয় শুধু নিজের ক্যারিয়ারেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়েও লিখেছেন নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্যও বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।























