ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সফর নিয়ে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত দিল্লির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে তারেক রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ভারত সফর ও ব্রিকস নিয়ে জল্পনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এমনকি ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও একই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেটিকে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ থেকে আলাদা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ

বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর কূটনৈতিক রীতির অংশ হিসেবেই এ আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

র’ প্রধানের ঢাকা সফর

একই দিনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র’)-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশের পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান সম্ভব নয়।

সূত্রের দাবি, বৈঠকের পর ত্রিবেদী দিল্লিকে ঢাকার সাম্প্রতিক অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন।

‘লুক ইস্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব

নরেন্দ্র মোদির নতুন ‘লুক ইস্ট’ উদ্যোগে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই তারেক রহমানের কথিত কঠোর অবস্থান দিল্লির কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উভয় দেশই বর্তমানে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই একে অপরের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন।

দিল্লির দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে তাঁর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে দিল্লির অবস্থান সহজে পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলেও সূত্রগুলো স্বীকার করেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির কাছে একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকা ও দিল্লি কতটা সমঝোতার পথে এগোতে পারে, তার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।


দ্রষ্টব্য: উপরের প্রতিবেদনটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত দাবি ও কূটনৈতিক সূত্রভিত্তিক তথ্যের আলোকে নিজস্ব ভাষায় পুনর্লিখন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান’

আপডেট সময় ০৫:২৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সফর নিয়ে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে—এমন দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত দিল্লির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে তারেক রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ভারত সফর ও ব্রিকস নিয়ে জল্পনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এমনকি ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও একই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেটিকে ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ থেকে আলাদা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ

বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর কূটনৈতিক রীতির অংশ হিসেবেই এ আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

র’ প্রধানের ঢাকা সফর

একই দিনে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র’)-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশের পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান সম্ভব নয়।

সূত্রের দাবি, বৈঠকের পর ত্রিবেদী দিল্লিকে ঢাকার সাম্প্রতিক অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন।

‘লুক ইস্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব

নরেন্দ্র মোদির নতুন ‘লুক ইস্ট’ উদ্যোগে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই তারেক রহমানের কথিত কঠোর অবস্থান দিল্লির কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উভয় দেশই বর্তমানে নিজেদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই একে অপরের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন।

দিল্লির দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে তাঁর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে দিল্লির অবস্থান সহজে পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষ করে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলেও সূত্রগুলো স্বীকার করেছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির কাছে একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ঢাকা ও দিল্লি কতটা সমঝোতার পথে এগোতে পারে, তার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।


দ্রষ্টব্য: উপরের প্রতিবেদনটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত দাবি ও কূটনৈতিক সূত্রভিত্তিক তথ্যের আলোকে নিজস্ব ভাষায় পুনর্লিখন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।