সতর্কবার্তা এনবিআরের: ‘আয়কর নিরীক্ষা’ থেকে অব্যাহতির নামে টাকা চাইলে বুঝবেন প্রতারণা
করদাতাদের লক্ষ্য করে নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষায় (অডিট) পড়েছে—এমন দাবি করে তারা ফোনে যোগাযোগ করছে এবং নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রলোভন কিংবা আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর স্পষ্ট জানায়, কর নথি নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কখনো ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে করদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কোনো রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট করদাতাকে আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়।
এনবিআর করদাতাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, লিখিত নোটিশ ছাড়া নিরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো ফোনকল বা বার্তার ওপর বিশ্বাস করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, কর বা ফি পরিশোধের অর্থ কেবল সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ নেওয়ার বৈধতা রাখেন না।
এ ছাড়া সন্দেহজনক ফোন, এসএমএস বা ই-মেইল পেলে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এনবিআরের কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করেন, তাহলে তার নম্বর সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এনবিআর জানিয়েছে, তিন দফায় আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য এক লাখের বেশি করদাতাকে নির্বাচন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ জুন আরও ৫ হাজার ১৪ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়। এর আগে প্রথম দফায় ১৫ হাজার ৪৯৪ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ জন করদাতার রিটার্ন অটোমেটেড পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়েছিল।
নিজের রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না, তা জানতে এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় টিআইএন নম্বর দিয়ে সহজেই খোঁজ নেওয়া যাবে।

























