শেখ হাসিনার সামনেই বিস্ফোরক মন্তব্য ওবায়দুল কাদেরের! আওয়ামী লীগের ভেতরে কি শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। যে নেত্রীর একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একসময় দলের ভেতরে ফিসফিস করতেও কেউ সাহস পেত না, সেই শেখ হাসিনার সামনেই এবার তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তুললেন প্রশ্ন।
শুধু প্রশ্নই নয়, তিনি এমন দুটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন, যেগুলো একসময় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হতো। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চাইলেন— এত আশা নিয়ে যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল, তারা আজ দলকে কী দিলেন?

ঘটনাটি ঘটে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায়। সভাটি সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক তখন চোখ রাখছিলেন সেই লাইভ সম্প্রচারে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা সক্রিয় না থাকলেও সেদিন ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠে ছিল ভিন্ন সুর। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন—
“আপনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, একজন রাষ্ট্রনায়ক। আপনাকে উপদেশ দেওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ভাবতে হবে, যে আশা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান বানানো হয়েছিল, তারা আজ আমাদের কী দিয়েছেন?”
একসময়ের ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে এমন প্রকাশ্য প্রশ্ন অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে এভাবে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়; বরং ক্ষমতা হারানোর পর দলটির ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা ও আত্মসমালোচনার বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এমন মন্তব্যের পরও শেখ হাসিনা সেদিন কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে সভা শেষ করেন। তার এই নীরবতাও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তাহলে কি আওয়ামী লীগের ভেতরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ?
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কি বাড়ছে মতপার্থক্য?
নাকি এটি শুধুই ক্ষমতা হারানোর পর বাস্তবতা উপলব্ধির একটি প্রকাশ?
প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল শুধু সরকার বদলায় না, বদলে দেয় সম্পর্ক, অবস্থান এবং রাজনৈতিক ভাষাও।
আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে ছয় দফা দিবসের ওই ভার্চুয়াল সভায় ওবায়দুল কাদেরের কয়েক মিনিটের বক্তব্য।
সূত্র : The Wave24

























