ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘লাইফলাইন’-এ নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেলেন বিদ্যা সিনহা মিম

নিজস্ব সংবাদ :

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়া নতুন সিনেমা ‘লাইফলাইন’ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ঢালিউড অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। শুধু নতুন একটি কাজের আনন্দই নয়, সিনেমার গল্পের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনেরও গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মা-বাবাকে ঘিরে আবেগ, দায়িত্ববোধ ও জীবনের পরিবর্তিত বাস্তবতা তাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিম বলেন, ‘লাইফলাইন’-এর গল্প তার নিজের জীবনের অনুভূতির খুব কাছাকাছি। তিনি জানান, বাস্তব জীবনেও তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শারীরিক অসুস্থতা এবং সেই পরিস্থিতিতে সন্তানের দায়িত্ব—এসব বিষয় এখন তার জীবনেও বাস্তব হয়ে উঠেছে। তাই সিনেমার গল্প তাকে আলাদাভাবে নাড়া দিয়েছে।

চরকির সঙ্গে এটি মিমের প্রথম কাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম কাজটি এত সুন্দর একটি গল্প দিয়ে শুরু করতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। পুরো টিম এবং চরকির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এমন মানসম্মত কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

পরিচালক কাজী আসাদের নির্মাণে ‘লাইফলাইন’-এ মিম অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে। তার ভাষ্য, শুটিংয়ের সময় কখনোই মনে হয়নি তিনি অভিনয় করছেন। সহশিল্পী ও পুরো ইউনিটের সহযোগিতার কারণে চরিত্রটি যেন স্বাভাবিকভাবেই তার ভেতর জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। অনন্যার যাত্রাকে তিনি নিজের অনুভূতির মতো করেই উপলব্ধি করেছেন।

সিনেমাটিতে মিমের সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন রিজওয়ান পারভেজ। দুর্গম পথে মোটরসাইকেলে যাত্রা, নানা চ্যালেঞ্জ, খুনসুটি ও মান-অভিমানের মধ্য দিয়ে দুই চরিত্রের সম্পর্ক পর্দায় এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।

শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিম জানান, শুরুতে কুয়াকাটার দুর্গম লোকেশনে শুটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার কিছুটা দ্বিধা ছিল। তিনি ভেবেছিলেন, ঢাকার আশপাশেই কাজটি করা সম্ভব। তবে পরিচালক তাকে আগে লোকেশন দেখার পরামর্শ দেন।

পরে সেখানে গিয়ে নিজের ধারণা পুরোপুরি বদলে যায়। মিম বলেন, এমন অনেক জায়গায় শুটিং করতে হয়েছে যেখানে গাড়ি পৌঁছাত না; কখনো মোটরসাইকেল, আবার কখনো ভ্যানে করে যেতে হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির সেই অনন্য পরিবেশ এবং লোকেশন দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, গল্পের আবহ ফুটিয়ে তুলতে এর চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর হতে পারত না। একই সঙ্গে পুরো ইউনিটের আন্তরিক সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।

মানবিক সম্পর্ক, পারিবারিক আবেগ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘লাইফলাইন’ দর্শকদের পরিচিত জীবনের গল্পকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘লাইফলাইন’-এ নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেলেন বিদ্যা সিনহা মিম

আপডেট সময় ০৩:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়া নতুন সিনেমা ‘লাইফলাইন’ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ঢালিউড অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। শুধু নতুন একটি কাজের আনন্দই নয়, সিনেমার গল্পের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনেরও গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মা-বাবাকে ঘিরে আবেগ, দায়িত্ববোধ ও জীবনের পরিবর্তিত বাস্তবতা তাকে ব্যক্তিগতভাবে স্পর্শ করেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিম বলেন, ‘লাইফলাইন’-এর গল্প তার নিজের জীবনের অনুভূতির খুব কাছাকাছি। তিনি জানান, বাস্তব জীবনেও তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শারীরিক অসুস্থতা এবং সেই পরিস্থিতিতে সন্তানের দায়িত্ব—এসব বিষয় এখন তার জীবনেও বাস্তব হয়ে উঠেছে। তাই সিনেমার গল্প তাকে আলাদাভাবে নাড়া দিয়েছে।

চরকির সঙ্গে এটি মিমের প্রথম কাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম কাজটি এত সুন্দর একটি গল্প দিয়ে শুরু করতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। পুরো টিম এবং চরকির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এমন মানসম্মত কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।

পরিচালক কাজী আসাদের নির্মাণে ‘লাইফলাইন’-এ মিম অভিনয় করেছেন ‘অনন্যা’ চরিত্রে। তার ভাষ্য, শুটিংয়ের সময় কখনোই মনে হয়নি তিনি অভিনয় করছেন। সহশিল্পী ও পুরো ইউনিটের সহযোগিতার কারণে চরিত্রটি যেন স্বাভাবিকভাবেই তার ভেতর জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। অনন্যার যাত্রাকে তিনি নিজের অনুভূতির মতো করেই উপলব্ধি করেছেন।

সিনেমাটিতে মিমের সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন রিজওয়ান পারভেজ। দুর্গম পথে মোটরসাইকেলে যাত্রা, নানা চ্যালেঞ্জ, খুনসুটি ও মান-অভিমানের মধ্য দিয়ে দুই চরিত্রের সম্পর্ক পর্দায় এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।

শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মিম জানান, শুরুতে কুয়াকাটার দুর্গম লোকেশনে শুটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার কিছুটা দ্বিধা ছিল। তিনি ভেবেছিলেন, ঢাকার আশপাশেই কাজটি করা সম্ভব। তবে পরিচালক তাকে আগে লোকেশন দেখার পরামর্শ দেন।

পরে সেখানে গিয়ে নিজের ধারণা পুরোপুরি বদলে যায়। মিম বলেন, এমন অনেক জায়গায় শুটিং করতে হয়েছে যেখানে গাড়ি পৌঁছাত না; কখনো মোটরসাইকেল, আবার কখনো ভ্যানে করে যেতে হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির সেই অনন্য পরিবেশ এবং লোকেশন দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, গল্পের আবহ ফুটিয়ে তুলতে এর চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর হতে পারত না। একই সঙ্গে পুরো ইউনিটের আন্তরিক সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।

মানবিক সম্পর্ক, পারিবারিক আবেগ এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘লাইফলাইন’ দর্শকদের পরিচিত জীবনের গল্পকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।