রেমিট্যান্সে দারুণ গতি: ১৮ দিনেই দেশে এলো প্রায় ১৮০ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের বেশি
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।
পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ের ১৬ থেকে ১৮ তারিখ—মাত্র তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মধ্যেই মোট প্রাপ্তি প্রায় ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে সরকারের উৎসাহমূলক পদক্ষেপ, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়ক। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

























