ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, নতুন মুখ খুঁজছে ক্ষমতাসীন মহল

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেনএমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে পারেন। যদিও বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সরকার বিএনপির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে নানা নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী এক সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর ভাষায়, “ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম আলোচনায় আসবে।

সংবিধানের ৫০() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। কারণ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর পদে থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। ছাত্রজনতার আন্দোলনের পর তাঁর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচিও হয়েছিল, যদিও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সত্য হলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ পাবে বিএনপি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নবাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, নতুন মুখ খুঁজছে ক্ষমতাসীন মহল

আপডেট সময় ০৩:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেনএমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে পারেন। যদিও বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সরকার বিএনপির ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে নানা নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী এক সচিবের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর ভাষায়, “ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম আলোচনায় আসবে।

সংবিধানের ৫০() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। কারণ, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর পদে থাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। ছাত্রজনতার আন্দোলনের পর তাঁর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচিও হয়েছিল, যদিও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সত্য হলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দের একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ পাবে বিএনপি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নবাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?