‘রাজপথে ছিল না, ৫ আগস্টের পর বেরিয়ে এসেছে গুপ্তবাহিনী’—শরিকদের ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে অনুপস্থিত ছিল, তারাই সরকার পতনের পর নিজেদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্য অটুট রেখে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগীরা একসঙ্গেই থাকবে। জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে সেটি যেন কোনোভাবেই বিভাজনের কারণ না হয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য, সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, তারা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে শুরু করেছে। ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই মানুষ বুঝতে পারবে কাদের কথা বলা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের আস্থা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে এ ধরনের সুযোগসন্ধানী রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় শরিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগেই এই সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির প্রতিই সমর্থন জানিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাই ৩১ দফা বাস্তবায়নেও সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নানা সংকটে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। সব ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য না এলেও সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্য দেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এ সময় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।


























