মোদীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে এবং বৈঠকের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
এর আগে সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। একই দিনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের পর বিকেলে তিনি দিল্লি যান এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাই কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দিকনির্দেশনা চেয়েছেন হাই কমিশনার।
ঢাকায় অবস্থানকালে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বিরোধপূর্ণ বিষয় থাকলেও ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের কারণে সেসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার।
সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও দেখা গেছে। গত জুলাই মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম। এছাড়া ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে ভারত।
কূটনৈতিক মহলে আরও আলোচনা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটিকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এর মধ্যেই দীনেশ ত্রিবেদীর ধারাবাহিক বৈঠক ও দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে তিনি আগেই মন্তব্য করেছিলেন, ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আলোচনা হলে বিদ্যমান বহু জটিল সমস্যার সমাধানের পথ খুলে যেতে পারে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর রয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কতটা নতুন গতি দিতে পারে তার দিকে।
























