মুক্তির আগেই ঝড় তুলেছে ‘হোপ’—দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাকে ঘিরে তুমুল উন্মাদনা
অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড, বক্স অফিসের পাশাপাশি একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে এই সিনেমার সাফল্যের ওপর।
মুক্তির আগেই দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘হোপ’। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সিনেমা বুধবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। তবে মুক্তির আগেই দর্শকদের আগ্রহ এতটাই বেড়েছে যে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে এটি বছরের সব সিনেমাকে ছাড়িয়ে গেছে।
কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত বিক্রি হওয়া অগ্রিম টিকিটের ৬২ শতাংশেরও বেশি ছিল শুধু ‘হোপ’-এর। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টিকিট বুকিং হয়েছে, যা চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র বাজারে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অগ্রিম বিক্রির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে সিনেমাটি মাসের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়ায় প্রথম কয়েক সপ্তাহ বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে না ‘হোপ’-কে।
চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন খ্যাতিমান পরিচালক না হং-জিন। দীর্ঘ এক দশক পর নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরেছেন তিনি। এর আগে তাঁর নির্মিত ‘দ্য চেজার’, ‘দ্য ইয়েলো সি’ এবং ‘দ্য ওয়েইলিং’ সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
২০২৪ সালের মার্চে ‘হোপ’-এর শুটিং শেষ হলেও দীর্ঘ পোস্ট-প্রোডাকশনের কারণে মুক্তি পিছিয়ে যায়। পরে চলতি বছরের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
শুধু বক্স অফিস নয়, ‘হোপ’-এর সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান প্লাস এম এন্টারটেইনমেন্ট-এর ভবিষ্যৎও। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটের কারণে আদালতে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এদিকে দর্শকদের হলে ফেরাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক সিনেমা টিকিটে ছাড়ের কুপন দেওয়া হচ্ছে, যার বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ‘হোপ’। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এমন উদ্যোগ বক্স অফিস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
মুক্তির আগে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্য ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। কান উৎসবে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছিল, মুক্তির আগে তা আরও উন্নত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্প ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির বক্স অফিস আয় মহামারির আগের সময়ের ৭৩ শতাংশের বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশীয় সিনেমার আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এ বছরের সবচেয়ে সফল সিনেমা ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ হলেও এখন পুরো নজর ‘হোপ’-এর দিকে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সিনেমা দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করে নতুন বক্স অফিস ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
























