ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠে নামার আগে দুই হাত তুলে দোয়া—লামিন ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে যে সংগ্রামী দাদির অজানা গল্প

নিজস্ব সংবাদ :

মনিরুজ্জামান মনির ,প্রধান প্রতিবেদক

বিশ্ব ফুটবলে লামিন ইয়ামালের উত্থান যেন এক বিস্ময়। অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। মাঠে তার অসাধারণ নৈপুণ্য যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনি ম্যাচ শুরুর আগে হাঁটু গেড়ে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার দৃশ্যও বহু মানুষের নজর কাড়ে।

অনেকেই জানতে চান, এই অভ্যাসের শুরু কোথায়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন—তার দাদি ফাতিমা নাসরাউইয়ের গল্পে। শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, ত্যাগ, সংগ্রাম ও অদম্য সাহসের যে উত্তরাধিকার তিনি নাতির হাতে তুলে দিয়েছেন, সেটিই আজ ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দাদির কাছ থেকেই বিশ্বাসের শিক্ষা

ছোটবেলা থেকেই ফাতিমা নাসরাউই নাতিকে শেখাতেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। তার বিশ্বাস ছিল, মানুষের চেষ্টা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফাতিমা নিয়মিত ইয়ামালকে দোয়া পড়ে মাঠে নামতে উৎসাহ দিতেন। তিনি তাকে বলতেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

আজও সেই শিক্ষা ভুলে যাননি ইয়ামাল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাকে প্রায়ই দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখা যায়। অনেকের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়; বরং মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার একটি উপায়।

উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্নে এক নারীর কঠিন যাত্রা

আজকের বিশ্বতারকা ইয়ামালের গল্প শুরু হয়নি ফুটবল মাঠে। এর শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে মরক্কোর এক সাধারণ পরিবারে।

১৯৯০-এর দশকে উন্নত জীবনের আশায় ফাতিমা নাসরাউই একাই মরক্কো ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান। সে সময় তার কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রও ছিল না। অনিশ্চয়তা, ভয় এবং নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুধু একটি স্বপ্ন নিয়ে—তার সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন।

বিদেশের মাটিতে পৌঁছে তার জন্য অপেক্ষা করছিল না কোনো বিলাসী জীবন। বরং শুরু হয় টিকে থাকার কঠিন লড়াই।

একসঙ্গে তিন শিফটে কাজ, শুধু পরিবারের জন্য

স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। কখনো বৃদ্ধাশ্রমে, কখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে, আবার কখনো একাধিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন সময়ও গেছে যখন তিনি দিনে তিনটি শিফটে কাজ করেছেন। নিজের আরাম-আয়েশের জন্য নয়, বরং সন্তানদের স্পেনে এনে লেখাপড়া ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই সংগ্রাম চালিয়ে যান।

তার সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই পরে তার ছেলে মুনির নাসরাউই—যিনি লামিন ইয়ামালের বাবা—স্পেনে এসে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান। তখন মুনিরের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দাদিই হয়ে ওঠেন ভরসা

ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শেইলা এবানার বিচ্ছেদ ঘটে।

এই কঠিন সময়ে দাদি ফাতিমা নাতির জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়ান। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায় তিনি ইয়ামালকে বড় হতে দেখেছেন, শাসন করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন এবং জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছেন।

ইয়ামাল বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে পরিবারের ত্যাগ ও দাদির অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবারের সংগ্রামই তাকে প্রতিদিন আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে।

ম্যাচের আগে দোয়া—শুধু ধর্ম নয়, আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ইয়ামালের ম্যাচপূর্ব দোয়ার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফাতিমা ছোটবেলা থেকেই তাকে সুরা আল-ফাতিহা পাঠ এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছেন।

ইয়ামালের কাছে এই দোয়া কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়; এটি তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে, চাপ সামলাতে এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।

বিশ্বতারকা হয়েও দাদিকে ভোলেননি

সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও ইয়ামাল কখনো তার দাদিকে ভুলে যাননি।

বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিনি চেয়েছিলেন, দাদি উপস্থিত না থাকলে কোনো আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হবে না। ফলে অনুষ্ঠানের সময়সূচিও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে ফাতিমা সেখানে থাকতে পারেন।

এছাড়া দাদির জন্য একটি বাড়ি কিনে দেওয়ার খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত রোকাফোন্দা এলাকা ছাড়তে প্রথমদিকে রাজি ছিলেন না ফাতিমা।

সংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করছেন ইয়ামাল

আজ কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে লামিন ইয়ামাল অনুপ্রেরণার নাম। কিন্তু তার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বহু বছর আগে, যখন একজন সংগ্রামী নারী নিজের স্বপ্ন নয়, পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন।

ফাতিমা নাসরাউই শুধু একজন দাদি নন; তিনি সাহস, ত্যাগ, বিশ্বাস ও মাতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার জীবন প্রমাণ করে, একজন মানুষের নীরব সংগ্রামও একদিন পুরো পৃথিবীর সামনে সাফল্যের গল্প হয়ে উঠতে পারে।

আজ যখন লামিন ইয়ামাল ম্যাচের আগে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তখন সেই দৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শুধু একজন ফুটবলারের বিশ্বাস নয়; বরং একজন দাদির অগণিত ত্যাগ, একটি পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার এক অনন্য ইতিহাস।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিশেষ করে Times of India এবং The New York Times-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাঠে নামার আগে দুই হাত তুলে দোয়া—লামিন ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে যে সংগ্রামী দাদির অজানা গল্প

আপডেট সময় ১২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

মনিরুজ্জামান মনির ,প্রধান প্রতিবেদক

বিশ্ব ফুটবলে লামিন ইয়ামালের উত্থান যেন এক বিস্ময়। অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। মাঠে তার অসাধারণ নৈপুণ্য যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনি ম্যাচ শুরুর আগে হাঁটু গেড়ে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার দৃশ্যও বহু মানুষের নজর কাড়ে।

অনেকেই জানতে চান, এই অভ্যাসের শুরু কোথায়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একজন—তার দাদি ফাতিমা নাসরাউইয়ের গল্পে। শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, ত্যাগ, সংগ্রাম ও অদম্য সাহসের যে উত্তরাধিকার তিনি নাতির হাতে তুলে দিয়েছেন, সেটিই আজ ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দাদির কাছ থেকেই বিশ্বাসের শিক্ষা

ছোটবেলা থেকেই ফাতিমা নাসরাউই নাতিকে শেখাতেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। তার বিশ্বাস ছিল, মানুষের চেষ্টা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফাতিমা নিয়মিত ইয়ামালকে দোয়া পড়ে মাঠে নামতে উৎসাহ দিতেন। তিনি তাকে বলতেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

আজও সেই শিক্ষা ভুলে যাননি ইয়ামাল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাকে প্রায়ই দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখা যায়। অনেকের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়; বরং মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার একটি উপায়।

উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্নে এক নারীর কঠিন যাত্রা

আজকের বিশ্বতারকা ইয়ামালের গল্প শুরু হয়নি ফুটবল মাঠে। এর শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে মরক্কোর এক সাধারণ পরিবারে।

১৯৯০-এর দশকে উন্নত জীবনের আশায় ফাতিমা নাসরাউই একাই মরক্কো ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান। সে সময় তার কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রও ছিল না। অনিশ্চয়তা, ভয় এবং নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুধু একটি স্বপ্ন নিয়ে—তার সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন।

বিদেশের মাটিতে পৌঁছে তার জন্য অপেক্ষা করছিল না কোনো বিলাসী জীবন। বরং শুরু হয় টিকে থাকার কঠিন লড়াই।

একসঙ্গে তিন শিফটে কাজ, শুধু পরিবারের জন্য

স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। কখনো বৃদ্ধাশ্রমে, কখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে, আবার কখনো একাধিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন সময়ও গেছে যখন তিনি দিনে তিনটি শিফটে কাজ করেছেন। নিজের আরাম-আয়েশের জন্য নয়, বরং সন্তানদের স্পেনে এনে লেখাপড়া ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই সংগ্রাম চালিয়ে যান।

তার সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই পরে তার ছেলে মুনির নাসরাউই—যিনি লামিন ইয়ামালের বাবা—স্পেনে এসে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান। তখন মুনিরের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দাদিই হয়ে ওঠেন ভরসা

ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শেইলা এবানার বিচ্ছেদ ঘটে।

এই কঠিন সময়ে দাদি ফাতিমা নাতির জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়ান। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায় তিনি ইয়ামালকে বড় হতে দেখেছেন, শাসন করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন এবং জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছেন।

ইয়ামাল বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে পরিবারের ত্যাগ ও দাদির অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তার ভাষায়, পরিবারের সংগ্রামই তাকে প্রতিদিন আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে।

ম্যাচের আগে দোয়া—শুধু ধর্ম নয়, আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ইয়ামালের ম্যাচপূর্ব দোয়ার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফাতিমা ছোটবেলা থেকেই তাকে সুরা আল-ফাতিহা পাঠ এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছেন।

ইয়ামালের কাছে এই দোয়া কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়; এটি তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে, চাপ সামলাতে এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করে।

বিশ্বতারকা হয়েও দাদিকে ভোলেননি

সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও ইয়ামাল কখনো তার দাদিকে ভুলে যাননি।

বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিনি চেয়েছিলেন, দাদি উপস্থিত না থাকলে কোনো আনুষ্ঠানিক ছবি তোলা হবে না। ফলে অনুষ্ঠানের সময়সূচিও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল যাতে ফাতিমা সেখানে থাকতে পারেন।

এছাড়া দাদির জন্য একটি বাড়ি কিনে দেওয়ার খবরও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত রোকাফোন্দা এলাকা ছাড়তে প্রথমদিকে রাজি ছিলেন না ফাতিমা।

সংগ্রামের উত্তরাধিকার বহন করছেন ইয়ামাল

আজ কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে লামিন ইয়ামাল অনুপ্রেরণার নাম। কিন্তু তার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বহু বছর আগে, যখন একজন সংগ্রামী নারী নিজের স্বপ্ন নয়, পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন।

ফাতিমা নাসরাউই শুধু একজন দাদি নন; তিনি সাহস, ত্যাগ, বিশ্বাস ও মাতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার জীবন প্রমাণ করে, একজন মানুষের নীরব সংগ্রামও একদিন পুরো পৃথিবীর সামনে সাফল্যের গল্প হয়ে উঠতে পারে।

আজ যখন লামিন ইয়ামাল ম্যাচের আগে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তখন সেই দৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শুধু একজন ফুটবলারের বিশ্বাস নয়; বরং একজন দাদির অগণিত ত্যাগ, একটি পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার এক অনন্য ইতিহাস।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিশেষ করে Times of India এবং The New York Times-এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।