ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবুনগরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনটির মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত দাবিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা সাদপন্থিদের হাতে আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া এবং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের বিষয়ে।

ধর্ম অবমাননায় কঠোর আইনের দাবি

হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে জাতীয় সংসদে বিশেষ আইন পাস করতে হবে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকবে। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার আহ্বানও জানানো হয়।

শাপলা চত্বর ও পরবর্তী ঘটনাগুলোর বিচার দাবি

সংগঠনটি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। পাশাপাশি ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি ও চাকরির সুযোগ

হেফাজত দাওরায়ে হাদিস সনদের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কওমি দাওরায়ে হাদিস সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কাদিয়ানী ও হিজবুত তাওহিদ প্রসঙ্গ

দাবিপত্রে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ‘অপতৎপরতা’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আলেমদের মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হেফাজত বলেছে, দেশের আলেম-ওলামাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে অবস্থান

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে সংগঠনটি দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং সাদপন্থিদের টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


বাবুনগরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলেমদের মতবিনিময়

বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ৭০ জন শীর্ষ আলেম এতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এরপর সংগঠনটির শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাবুনগরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

আপডেট সময় ০২:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনটির মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত লিখিত দাবিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা সাদপন্থিদের হাতে আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া এবং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের বিষয়ে।

ধর্ম অবমাননায় কঠোর আইনের দাবি

হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে জাতীয় সংসদে বিশেষ আইন পাস করতে হবে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকবে। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার আহ্বানও জানানো হয়।

শাপলা চত্বর ও পরবর্তী ঘটনাগুলোর বিচার দাবি

সংগঠনটি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। পাশাপাশি ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি ও চাকরির সুযোগ

হেফাজত দাওরায়ে হাদিস সনদের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে কওমি শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কওমি দাওরায়ে হাদিস সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কাদিয়ানী ও হিজবুত তাওহিদ প্রসঙ্গ

দাবিপত্রে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ‘অপতৎপরতা’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আলেমদের মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হেফাজত বলেছে, দেশের আলেম-ওলামাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে অবস্থান

তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে সংগঠনটি দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং সাদপন্থিদের টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


বাবুনগরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলেমদের মতবিনিময়

বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ৭০ জন শীর্ষ আলেম এতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এরপর সংগঠনটির শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।