বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের ওপর জোর
বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট।
বুধবার চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পল ফ্রস্ট জানান, তাঁর সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করা, উভয় দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চাইলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন খাতে কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। তাই বর্তমান সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন এবং অন্যান্য অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনালসহ বিভিন্ন কৌশলগত প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া সরকারের পরিকল্পিত ফ্রি-ট্রেড জোনগুলোতেও মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব এলাকায় একটি ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমেই সহজে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, বর্তমানে অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, শিল্পখাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে মার্কিন পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। তাই বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলনগুলোতে মার্কিন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসা ও পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সহজ করা, চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অফিস স্থাপন, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি বিমান চলাচল চালু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও চট্টগ্রাম চেম্বারের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

























