ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের বন্যার শঙ্কায় নেপাল,উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ

কাগজের খবর ডেস্ক:

ফের বন্যার শঙ্কায় নেপাল

নেপাল-তিব্বত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ না কাটতেই সেই একই এলাকায় শিগগিরই আরও একটি বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন।

গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার প্রধান স্থল সীমান্ত ‘গিরিয়ং’ বন্দর এলাকা কাদা ও পানির এক প্রলয়ঙ্কারী স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছেন।

কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, গত কয়েক ঘণ্টার অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ফলে জমা হওয়া ধ্বংসস্তূপের মাঝে যে কৃত্রিম হ্রদটি তৈরি হয়েছে, তার পানির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পুনরায় ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছের নতুন একটি ‘বেরিয়ার হ্রদের’ সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামনের আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কাজ স্থগিত থাকবে।

‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ হলো এমন এক ধরনের হ্রদ, যা সাধারণত কোনও নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে তৈরি হয়। বুধবার নেপাল-তিব্বতে যে ভয়াবহ আকস্মিক বান দেখা দিলো, সেটির কারণও একটি ব্যারিয়ার হ্রদ। তুষার ধসের জেরে নেপাল চীন সীমন্তবর্তী ভোতি কোশি নদীর শাখানদী লেহেন্দে নদী একাংশ একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছিল। নদীর পানিপ্রবাহের প্রবল চাপে একসময় সেই হ্রদ ভেঙে পড়ে এবং আটকে থাকা লাখ লাখ ঘনমিটার মিটার পানি লেহেন্দ নদী থেকে প্রবেশ করে ভোতিকোশিতে। তার জেরেই বুধবার বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী জেলা গিরংয়ে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। কাদা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ।

অন্যদিকে তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ৫৫০ জনেরও বেশি।

আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফের বন্যার শঙ্কায় নেপাল,উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের, প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ

আপডেট সময় ০৬:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ না কাটতেই সেই একই এলাকায় শিগগিরই আরও একটি বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন।

গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার প্রধান স্থল সীমান্ত ‘গিরিয়ং’ বন্দর এলাকা কাদা ও পানির এক প্রলয়ঙ্কারী স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছেন।

কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে, গত কয়েক ঘণ্টার অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ফলে জমা হওয়া ধ্বংসস্তূপের মাঝে যে কৃত্রিম হ্রদটি তৈরি হয়েছে, তার পানির চাপ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পুনরায় ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছের নতুন একটি ‘বেরিয়ার হ্রদের’ সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটির ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামনের আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কাজ স্থগিত থাকবে।

‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ হলো এমন এক ধরনের হ্রদ, যা সাধারণত কোনও নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে তৈরি হয়। বুধবার নেপাল-তিব্বতে যে ভয়াবহ আকস্মিক বান দেখা দিলো, সেটির কারণও একটি ব্যারিয়ার হ্রদ। তুষার ধসের জেরে নেপাল চীন সীমন্তবর্তী ভোতি কোশি নদীর শাখানদী লেহেন্দে নদী একাংশ একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছিল। নদীর পানিপ্রবাহের প্রবল চাপে একসময় সেই হ্রদ ভেঙে পড়ে এবং আটকে থাকা লাখ লাখ ঘনমিটার মিটার পানি লেহেন্দ নদী থেকে প্রবেশ করে ভোতিকোশিতে। তার জেরেই বুধবার বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী জেলা গিরংয়ে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। কাদা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ।

অন্যদিকে তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ৫৫০ জনেরও বেশি।

আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।