ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবার জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সেপ্টেম্বরেই নিউইয়র্ক সফর

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই অধিবেশনে একদিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব, অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে একজন বাংলাদেশি—এই সমন্বয় আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের উপস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক সাইডলাইন বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরটি হবে সংক্ষিপ্ত। প্রধানমন্ত্রী প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরসঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা হবে; মোট প্রতিনিধিদল ৩৫ জনের বেশি হবে না।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা”। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ প্রতিপাদ্যকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান ছয়টি অগ্রাধিকার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে গতি আনা, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসন এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কার। বিশেষ করে সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা, বৈশ্বিক ডিজিটাল কমপ্যাক্ট বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; পরে ২৮ সেপ্টেম্বরও অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট ও টেকসই উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবেন।

১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম ভাষণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে.

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রথমবার জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সেপ্টেম্বরেই নিউইয়র্ক সফর

আপডেট সময় ০৫:০৮:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই অধিবেশনে একদিকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব, অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে একজন বাংলাদেশি—এই সমন্বয় আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের উপস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক সাইডলাইন বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরটি হবে সংক্ষিপ্ত। প্রধানমন্ত্রী প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরসঙ্গীর সংখ্যা সীমিত রাখা হবে; মোট প্রতিনিধিদল ৩৫ জনের বেশি হবে না।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা”। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ প্রতিপাদ্যকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান ছয়টি অগ্রাধিকার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে গতি আনা, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসন এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কার। বিশেষ করে সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা, বৈশ্বিক ডিজিটাল কমপ্যাক্ট বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত; পরে ২৮ সেপ্টেম্বরও অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকট ও টেকসই উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবেন।

১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম ভাষণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে.