ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ পরিবারের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় নয়! রাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদন:

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিচয়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা আরও স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তে দেখা গেছে, নিজের পরিবারকে ঘিরেও কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ব্যতিক্রম রাখতে রাজি নন তিনি।

সম্প্রতি দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জিয়া পরিবারকে নিয়ে প্রকাশিত তিনটি বই সংরক্ষণের একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি হয়েছিল। বইগুলো ছিল— প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম এবং সবার আগে বাংলাদেশ। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একই দিন সেই নির্দেশনা বাতিল করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এর আগেও একই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে রাখার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের নামকরণের প্রস্তাব না পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জনগণের উপকারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সরকারি ব্যয় সংকোচনেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, জনগণের অর্থ অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না করে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান যেখানে ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, সুশাসন এবং জনস্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, তার বিপরীতে নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার এই অবস্থান একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিজ পরিবারের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় নয়! রাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৩:৫০:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন:

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিচয়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা আরও স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তে দেখা গেছে, নিজের পরিবারকে ঘিরেও কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ব্যতিক্রম রাখতে রাজি নন তিনি।

সম্প্রতি দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে জিয়া পরিবারকে নিয়ে প্রকাশিত তিনটি বই সংরক্ষণের একটি প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি হয়েছিল। বইগুলো ছিল— প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম এবং সবার আগে বাংলাদেশ। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে একই দিন সেই নির্দেশনা বাতিল করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এর আগেও একই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে রাখার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের নামকরণের প্রস্তাব না পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং জনগণের উপকারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সরকারি ব্যয় সংকোচনেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, জনগণের অর্থ অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না করে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান যেখানে ব্যক্তি, পরিবার বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, সুশাসন এবং জনস্বার্থই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, তার বিপরীতে নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার এই অবস্থান একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।