ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে-স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: নিম্ন গ্রেডে বাড়তে পারে বেশি ইনক্রিমেন্ট, চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে প্রস্তাব

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হলেও আর্থিক সক্ষমতা, ভাতা কাঠামো এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নতুন নীতি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে চলছে বিস্তর পর্যালোচনা। এসব বিষয় সমন্বয় করে দ্রুত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার শুধু গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ নয়; কর্মচারীদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আয়ের বাস্তব চিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত একই হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার সুপারিশ রয়েছে। ৫ম গ্রেডে ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩.৫ শতাংশ, ২য় গ্রেডে ২.৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণের বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালা তৈরিতে পরিচালিত একটি বড় জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরিপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মতামত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে অধিকাংশই ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানোর দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে সচিব কমিটি সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়েও আলোচনা করছে।

এদিকে বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সেই আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০০ টাকার বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। এরপর অনুমোদন মিললে দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবম পে-স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: নিম্ন গ্রেডে বাড়তে পারে বেশি ইনক্রিমেন্ট, চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হলেও আর্থিক সক্ষমতা, ভাতা কাঠামো এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নতুন নীতি নির্ধারণকে কেন্দ্র করে চলছে বিস্তর পর্যালোচনা। এসব বিষয় সমন্বয় করে দ্রুত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার শুধু গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ নয়; কর্মচারীদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং আয়ের বাস্তব চিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত একই হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার সুপারিশ রয়েছে। ৫ম গ্রেডে ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩.৫ শতাংশ, ২য় গ্রেডে ২.৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণের বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নীতিমালা তৈরিতে পরিচালিত একটি বড় জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরিপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মতামত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা উচিত। একই সঙ্গে অধিকাংশই ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানোর দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে সচিব কমিটি সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়েও আলোচনা করছে।

এদিকে বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন-ভাতা মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সেই আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০০ টাকার বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। এরপর অনুমোদন মিললে দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।