ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল এখনো চূড়ান্ত নয়, আরও কয়েক দফা বৈঠকের পর সরকারের কাছে যাবে সুপারিশ

নিজস্ব সংবাদ :

সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে আরও কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানান, বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও সেগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের একটি পরিকল্পনার ওপর ইতিবাচক মত দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রিসভার ওপরই থাকবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

বেতন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পর্যবেক্ষণও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা ও বাজেট ঘাটতির কারণে একবারে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এর আগে অনুষ্ঠিত পাঁচটি বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ আলোচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার নীতিগত মত উঠে এসেছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

পর্যালোচনা কমিটি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশও করা হয়েছিল।

এসব সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন পে-স্কেল এখনো চূড়ান্ত নয়, আরও কয়েক দফা বৈঠকের পর সরকারের কাছে যাবে সুপারিশ

আপডেট সময় ০২:৪২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে আরও কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানান, বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে অতিরিক্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও সেগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের একটি পরিকল্পনার ওপর ইতিবাচক মত দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রিসভার ওপরই থাকবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

বেতন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পর্যবেক্ষণও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা ও বাজেট ঘাটতির কারণে একবারে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এর আগে অনুষ্ঠিত পাঁচটি বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ আলোচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার নীতিগত মত উঠে এসেছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

পর্যালোচনা কমিটি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন কিংবা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশও করা হয়েছিল।

এসব সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।