ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন টানাপোড়েন, হাসিনা ইস্যুতে ঢাকাকে বীণা সিক্রির কড়া বার্তা

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করার সমালোচনা করেছেন ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, একটি রাজনৈতিক সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণের মতো দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়াকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া কূটনৈতিকভাবে সমীচীন নয়। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি সম্ভাব্য সফরের গুরুত্বও কমিয়ে দিতে পারে।

বীণা সিক্রি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেবেন। তবে প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ঢাকা।

এ ছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের দ্বিতীয় আমন্ত্রণের বিষয়েও সাড়া না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে বীণা সিক্রি বলেন, এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকলেও এমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে এই বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন তিনি।

তার ভাষায়, সফরের প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণের জন্য দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর বক্তব্য না দিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

এর আগে গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণে নয়াদিল্লির দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়টিও সফরের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সরকারি সম্পৃক্ততা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল বলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা ও রায় হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ ইস্যুটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন টানাপোড়েন, হাসিনা ইস্যুতে ঢাকাকে বীণা সিক্রির কড়া বার্তা

আপডেট সময় ০৩:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করার সমালোচনা করেছেন ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, একটি রাজনৈতিক সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণের মতো দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়াকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া কূটনৈতিকভাবে সমীচীন নয়। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি সম্ভাব্য সফরের গুরুত্বও কমিয়ে দিতে পারে।

বীণা সিক্রি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। নয়াদিল্লির প্রত্যাশা ছিল, নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেবেন। তবে প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই আমন্ত্রণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ঢাকা।

এ ছাড়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের দ্বিতীয় আমন্ত্রণের বিষয়েও সাড়া না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে বীণা সিক্রি বলেন, এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থাকলেও এমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে এই বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন তিনি।

তার ভাষায়, সফরের প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণের জন্য দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর বক্তব্য না দিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

এর আগে গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণে নয়াদিল্লির দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয়টিও সফরের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনো সরকারি সম্পৃক্ততা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল বলেও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা ও রায় হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

শেখ হাসিনার পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ ইস্যুটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।