ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইতেই রেমিট্যান্সে চাঙ্গা অর্থনীতি, দেশে এলো প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব সংবাদ :

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, গত জুন মাসের তুলনাতেও জুলাইয়ের প্রবাহ কিছুটা বেশি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল প্রায় ২৮২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

রেকর্ড গড়া অর্থবছরের পর নতুন সূচনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন বাড়ছে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, বিদেশে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার এবং সহজে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে এবং আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ক্রয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুলাইতেই রেমিট্যান্সে চাঙ্গা অর্থনীতি, দেশে এলো প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৩:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

শুধু আগের বছরের তুলনায় নয়, গত জুন মাসের তুলনাতেও জুলাইয়ের প্রবাহ কিছুটা বেশি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল প্রায় ২৮২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

রেকর্ড গড়া অর্থবছরের পর নতুন সূচনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন বাড়ছে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, বিদেশে ব্যাংকিং সেবার বিস্তার এবং সহজে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে এবং আমদানি ব্যয়, জ্বালানি ক্রয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।