ছয় মাসে সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১৮০ দিনে দেশের বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারের সংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ ও অর্জনের কথা তুলে ধরা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলের রেখে যাওয়া সংকট ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তার দাবি, গত ছয় মাসে দেশে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি হয়নি এবং নাগরিকদের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের আইন ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠাকারী রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষকদের জন্য ঋণসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি কৃষক কার্ড, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন। রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সাফল্যের দাবি করেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জনবান্ধব পুলিশ-প্রশাসন গড়ে তোলার কাজ চলছে। আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। সমতা, ন্যায্যতা ও জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও জনসম্পৃক্ততার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সরকারপ্রধান ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
এ ছাড়া বড় প্রকল্পে অপচয় ও দুর্নীতি কমিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ, বন্ধ বা অচল শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, বন্দরগুলোকে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর রাখা এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























