কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন, ফ্যামিলি কার্ড থেকে মৎস্যপক্ষ উদ্বোধন
কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সড়কপথে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শপথ নেওয়ার পর এটাই কিশোরগঞ্জে তাঁর প্রথম সফর। জেলা সদর ছাড়াও পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করবেন তিনি।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। বেলা ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
দুপুরে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছু সময় বিশ্রাম শেষে বিকেল ২টার দিকে জেলা সদরের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সময় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।
বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনুদান দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সদর, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন সড়কে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের গর্ত ভরাটের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। দিন-রাত কাজ করে সফরের আগেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
তাঁদের মতে, জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের মূল আয়োজন রাজধানীর বাইরে কটিয়াদীতে হওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-চাহিদা পূরণে নতুন উদ্যোগের সূচনা হবে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
























