আয়কর রিটার্নে শেষ সুযোগ, সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিলবে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়
চলতি ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে শর্তসাপেক্ষে নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা। তবে এ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা।
ফলে বিশেষ এই ছাড় পেতে করদাতাদের হাতে রয়েছে আর মাত্র কয়েকদিন। সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল করলে এ প্রণোদনার সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে যোগ্য করদাতাদের নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ হারে রিবেট দেওয়া হবে। এর ফলে নির্ধারিত করের তুলনায় কিছুটা কম অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন করদাতারা।
তবে একজন করদাতা এই সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলেই কেবল এ সুবিধা কার্যকর হবে।
সেপ্টেম্বর পেরোলেই হারাবেন প্রণোদনা
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে বিশেষ ৫ শতাংশ প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে প্রচলিত আয়কর আইনের আওতায় বিলম্বজনিত অতিরিক্ত কর বা জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন করদাতারা।
তাই আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বিলম্বজনিত অতিরিক্ত খরচ এড়াতেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
করসেবা আরও সহজ ও ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে নতুন করবর্ষে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিআরের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে আয়-ব্যয়ের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করা যাবে।
অনলাইনে কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও একাধিক পদ্ধতি রাখা হয়েছে। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধ করা যাবে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে।
যাদের জন্য পেপার রিটার্নের সুযোগ
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। নতুন করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক হলেও নির্দিষ্ট কিছু করদাতার জন্য কাগজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্রের মাধ্যমে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে রিটার্ন দাখিলকারী প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
এ ছাড়া ই-রিটার্নে নিবন্ধনের সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে।


























