আতিফ আসলামের ঢাকা সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক: মূলধারার সাংবাদিকদের বাদ, ইউটিউবারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ
প্রেস কনফারেন্স ‘বিক্রি’ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ; আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, যোগাযোগের চেষ্টা করেও মেলেনি কোনো বক্তব্য
ঢাকায় কনসার্ট উপলক্ষে পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের আগমনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি তার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং ইউটিউবারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট-এর বিরুদ্ধে।
গত বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান আতিফ আসলাম। পরদিন বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিকের অভিযোগ, আগে থেকে নির্ধারিত একটি তালিকার অজুহাতে অনেক পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতারা সহজেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করার সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে অনেক টেলিভিশন, প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরাপারসন এবং প্রতিনিধিদের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জানাতে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাদের প্রশ্ন, প্রচারের প্রয়োজন হলে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হলেও সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কেন পেশাদার সাংবাদিকদের এমন আচরণের মুখোমুখি হতে হলো।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন সাংবাদিকের দাবি, পুরো আয়োজন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে কিছু ইউটিউবারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদ সম্মেলনটি কার্যত নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এছাড়া আয়োজকদের অন্যতম সদস্য আনন্দ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। তাদের দাবি, অতীতে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনন্দ চৌধুরীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট-এর অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিল্পীর সংবাদ সম্মেলনে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া দেশের বিনোদন অঙ্গনের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। অন্যদিকে আয়োজকদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
























