ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্থিরতা সৃষ্টি হলে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে: তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এর প্রকৃত শক্তি ছিল দেশের গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ মানুষ। তিনি সতর্ক করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলে তা পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ করে দিতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে ‘৫ আগস্ট’কে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অসংখ্য ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

তিনি অভিযোগ করেন, গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার কঠোর দমননীতি অনুসরণ করেছিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

জাদুঘর হবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের স্মারক

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, শহীদদের স্মৃতি এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের ঘটনাবলির স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না; বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে। নতুন প্রজন্ম যেন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের আশ্বাস

জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি প্রতিহিংসামূলক কোনো বিচার হবে না; বরং স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও তিনি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেককে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ

দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো ধরনের তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তিনি জাদুঘর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত স্থপতি, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস: এটি ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁর ভাষায়, এই জাদুঘর অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জাতিকে নতুন পথের দিশা দেখাবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ জাদুঘরে অতীতের বহু পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এই জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো, এখানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এমন উদ্যোগ বিশ্বে খুবই বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অস্থিরতা সৃষ্টি হলে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে: তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৩:২৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এর প্রকৃত শক্তি ছিল দেশের গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ মানুষ। তিনি সতর্ক করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলে তা পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ করে দিতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি লিখিত বক্তব্যে এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে ‘৫ আগস্ট’কে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অসংখ্য ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

তিনি অভিযোগ করেন, গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার কঠোর দমননীতি অনুসরণ করেছিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

জাদুঘর হবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের স্মারক

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, শহীদদের স্মৃতি এবং আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নিদর্শন পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের ঘটনাবলির স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না; বরং বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে। নতুন প্রজন্ম যেন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের আশ্বাস

জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও বিচার আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি প্রতিহিংসামূলক কোনো বিচার হবে না; বরং স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও তিনি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেককে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ

দেশ পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আর কখনো কোনো ধরনের তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তিনি জাদুঘর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত স্থপতি, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস: এটি ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাঁর ভাষায়, এই জাদুঘর অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জাতিকে নতুন পথের দিশা দেখাবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ জাদুঘরে অতীতের বহু পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এই জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো, এখানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এমন উদ্যোগ বিশ্বে খুবই বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।