ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৮-এর আগেই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এআই, ইলন মাস্কের নতুন পূর্বাভাস

নিজস্ব সংবাদ :

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু বিজ্ঞানী, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিবিদদের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এর ব্যবহার। এরই মধ্যে এআইয়ের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন এক সময়সীমা সামনে আনলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।

মাস্কের ধারণা, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এমনকি ২০২৭ সালের শেষ দিকে অথবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে এআই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এআইয়ের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন। ২০২১ সালে এআই গবেষক ফ্রাঁসোয়া শোলে এক দীর্ঘ লেখায় ধারণা দিয়েছিলেন, পরবর্তী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ প্রত্নতত্ত্বের মতো গবেষণাক্ষেত্রেও কম্পিউটার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা ব্যাপকভাবে বাড়বে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই পুরোনো বক্তব্য আবার সামনে আনেন শোলে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কয়েক বছর আগে যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তার কিছু অংশ ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

শোলের ওই পোস্টের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের মতামত জানান ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, শোলের আগের সময়সীমা বরং তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা রক্ষণশীল ছিল। মাস্কের হিসাব অনুযায়ী, এআইয়ের অগ্রগতির গতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাঁর অনুমান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিংবা ২০২৮ সালের মধ্যেই এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন বহু ক্ষেত্রে তা মানুষের সক্ষমতাকে অতিক্রম করবে।

মাস্ক আরও মনে করেন, ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রায় প্রতিটি স্তরেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরির মতো কাজে এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যে বাড়ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে এআই নিয়ে ইলন মাস্কের ভবিষ্যদ্বাণীর সময়সীমা এর আগেও একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এআই মানুষের সমপর্যায়ের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ২০২৪ সালে সেই অনুমান আরও এগিয়ে এনে ২০২৫ সালের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে মাস্ক বলেছিলেন, ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের মধ্যেই এআই কোনো একজন মানুষের তুলনায় বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এবার তাঁর নতুন বক্তব্যে সেই পূর্বাভাস আরও বিস্তৃত হয়েছে—২০২৭ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এআই শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে এগুলো এখনো ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত পূর্বাভাস; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এআই সত্যিই মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা অতিক্রম করবে কি না, তা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

২০২৮-এর আগেই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এআই, ইলন মাস্কের নতুন পূর্বাভাস

আপডেট সময় ০২:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু বিজ্ঞানী, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিবিদদের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এর ব্যবহার। এরই মধ্যে এআইয়ের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন এক সময়সীমা সামনে আনলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।

মাস্কের ধারণা, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এমনকি ২০২৭ সালের শেষ দিকে অথবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে এআই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এআইয়ের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন। ২০২১ সালে এআই গবেষক ফ্রাঁসোয়া শোলে এক দীর্ঘ লেখায় ধারণা দিয়েছিলেন, পরবর্তী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ প্রত্নতত্ত্বের মতো গবেষণাক্ষেত্রেও কম্পিউটার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা ব্যাপকভাবে বাড়বে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই পুরোনো বক্তব্য আবার সামনে আনেন শোলে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কয়েক বছর আগে যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তার কিছু অংশ ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

শোলের ওই পোস্টের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের মতামত জানান ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, শোলের আগের সময়সীমা বরং তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা রক্ষণশীল ছিল। মাস্কের হিসাব অনুযায়ী, এআইয়ের অগ্রগতির গতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাঁর অনুমান, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিংবা ২০২৮ সালের মধ্যেই এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন বহু ক্ষেত্রে তা মানুষের সক্ষমতাকে অতিক্রম করবে।

মাস্ক আরও মনে করেন, ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রায় প্রতিটি স্তরেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জটিল তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা পরিচালনা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরির মতো কাজে এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যে বাড়ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে এআই নিয়ে ইলন মাস্কের ভবিষ্যদ্বাণীর সময়সীমা এর আগেও একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এআই মানুষের সমপর্যায়ের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ২০২৪ সালে সেই অনুমান আরও এগিয়ে এনে ২০২৫ সালের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।

এরপর চলতি বছরের শুরুতে মাস্ক বলেছিলেন, ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের মধ্যেই এআই কোনো একজন মানুষের তুলনায় বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এবার তাঁর নতুন বক্তব্যে সেই পূর্বাভাস আরও বিস্তৃত হয়েছে—২০২৭ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এআই শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে এগুলো এখনো ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত পূর্বাভাস; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এআই সত্যিই মানুষের সামগ্রিক সক্ষমতা অতিক্রম করবে কি না, তা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।