কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে চায় সরকার
দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে আদা, মরিচ, টমেটো, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার জনবল, কার্যক্রম, অর্জন, কৃষি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের অগ্রগতির সঙ্গে কৃষির উন্নয়ন সরাসরি সম্পর্কিত। কৃষককে শক্তিশালী করা গেলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তিও আরও মজবুত হবে। এ সময় তিনি দেশে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষিজমির গুণগত মান রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সারের ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা। মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাসায়নিক উপকরণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, আগের বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর কৃষক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি যশোরের গদখালীতে ফুল ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড়ি ও সমতল এলাকার অনাবাদি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণ এবং চরাঞ্চলে ভুট্টা, মিষ্টি আলু ও বাদাম উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রয়োজনে কৃষকদের বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।
এ ছাড়া পাটচাষিরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা যায়, সে জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারের সামগ্রিক সাফল্যের পেছনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. রোকন উদ্দীন বাবুল, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোছা. সাবিরা সুলতানা, মো. গোলাম রছুল ও মো. আব্দুল বারী সরদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

























