ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত?

কাগজের খবর ডেস্ক:

জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত?

জ্বর এলেই অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন আসে এ অবস্থায় কি গোসল করা যাবে? কেউ বলেন, জ্বরের সময় একেবারেই গোসল করা উচিত নয়। আবার কেউ শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে ঠান্ডা বা বরফ-ঠান্ডা পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন। বিপরীতে কেউ কেউ খুব গরম পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নেন।

আসলে জ্বরের সময় গোসল করা পুরোপুরি নিষেধ নয়। তবে কী ধরনের পানি ব্যবহার করছেন এবং শরীরের অবস্থা কেমন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিষয়ক গাইডলাইনগুলোতে জ্বরের সময় আরাম দেওয়ার জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল বা স্পঞ্জিংয়ের কথা বলা হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি খেলে জ্বর ধীরে ধীরে সেরে যায়। কিন্তু জ্বরের সময় প্রতিদিনের কিছু সাধারণ ভুল সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷

জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরের সময় নিয়মিত অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, হালকা স্যুপ কিংবা তাজা ফলের রস খেতে পারেন। এতে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরের বেশিরভাগ শক্তি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ব্যয় হয়। ফলে হজমের প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ভাত, খিচুড়ি, ডাল, পায়েস বা জাউয়ের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। টোস্টও খাওয়া যেতে পারে।

জ্বর কমানোর জন্য বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উপকারী, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত ঠান্ডা জল শরীরে কাঁপুনি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা গরম বা কুসুম গরম জলে স্নান করুন। প্রয়োজনে কুসুম গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছেও নিতে পারেন।

জ্বর সারাতে শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।

হালকা জ্বর হলেও নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত?

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বর এলেই অনেকের মনে প্রথম প্রশ্ন আসে এ অবস্থায় কি গোসল করা যাবে? কেউ বলেন, জ্বরের সময় একেবারেই গোসল করা উচিত নয়। আবার কেউ শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে ঠান্ডা বা বরফ-ঠান্ডা পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন। বিপরীতে কেউ কেউ খুব গরম পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নেন।

আসলে জ্বরের সময় গোসল করা পুরোপুরি নিষেধ নয়। তবে কী ধরনের পানি ব্যবহার করছেন এবং শরীরের অবস্থা কেমন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিষয়ক গাইডলাইনগুলোতে জ্বরের সময় আরাম দেওয়ার জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল বা স্পঞ্জিংয়ের কথা বলা হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি খেলে জ্বর ধীরে ধীরে সেরে যায়। কিন্তু জ্বরের সময় প্রতিদিনের কিছু সাধারণ ভুল সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷

জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরের সময় নিয়মিত অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, হালকা স্যুপ কিংবা তাজা ফলের রস খেতে পারেন। এতে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরের বেশিরভাগ শক্তি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ব্যয় হয়। ফলে হজমের প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ভাত, খিচুড়ি, ডাল, পায়েস বা জাউয়ের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। টোস্টও খাওয়া যেতে পারে।

জ্বর কমানোর জন্য বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উপকারী, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত ঠান্ডা জল শরীরে কাঁপুনি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা গরম বা কুসুম গরম জলে স্নান করুন। প্রয়োজনে কুসুম গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছেও নিতে পারেন।

জ্বর সারাতে শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।

হালকা জ্বর হলেও নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।