ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি কমিউনিটি কানাডাতে পেল দ্বিতীয় এমপি

কাগজের খবর ডেস্ক:

বাংলাদেশি কমিউনিটি কানাডাতে পেল দ্বিতীয় এমপি

কানাডার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ তানভীর শাহনাওয়াজ। টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক- এর উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পেছনে ফেলে কানাডার পার্লামেন্টের নতুন সদস্য হিসেবে তানভীর শাহনাওয়াজ নির্বাচিত হন।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, তানভীর শাহনাওয়াজ পেয়েছেন ১৮,৩৬১ ভোট বা ৫৫.৭ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮,৫১২ ভোট বা ২৫.৮ শতাংশ। কনজারভেটিভ প্রার্থী জিম সারবস পেয়েছেন ৫,১১৬ ভোট বা ১৫.৫ শতাংশ। গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভস পেয়েছেন ১.৭ শতাংশ ভোট। মোট ২০০টি পোলের সবকটির ফলাফল রিপোর্ট হওয়ার পর এই ফল প্রকাশ করা হয়।

তানভীর শাহনাওয়াজের গল্পটা অন্যরকম। তিনি এই নির্বাচনি এলাকাতেই বড় হয়েছেন। তার জন্ম ও শৈশব কেটেছে টরন্টোর অতি পরিচিত ক্রিসেন্ট টাউন এলাকায়। তার বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় আসেন তার জন্মের সময়ের কাছাকাছি।

তানভীর কানাডার স্বনামধন্য‍্য ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর প্রায় এক দশক তিনি সাবেক লিবারেল এমপি ন‍্যাথানিয়েল এরিস্কন স্মিথের সঙ্গে কাজ করেন। এক সময় তিনি তার কন্সটিটিউএনসি অফিস ম‍্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি স্বল্প মেয়াদি হাউজিং মন্ত্রী এরিস্কন স্মিথ-এর দায়িত্বকালে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করেন।

রাজনীতিতে তার প্রবেশ হঠাৎ করে নয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন তানভীর। তিনি টেইলর- মেসি এন্ড ওকরিজ কমিউনিটি রেসপন্স টীমের কো-চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিসেন্ট টাউনের বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টার ৫৫ এবং গ্র্যান্ড এ.এম.ই চার্চের সঙ্গে খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।

উপনির্বাচনের আগে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার জন্যও তানভীরকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। ১৮ জুলাইয়ের মনোনয়ন নির্বাচনে মোট ৮৭৩টি ব্যালট গণনা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের সাবেক প্রাদেশিক সংসদ সদস্য (এমপিপি) আর্থার পটস, পরিবেশবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্লেয়ার সিবোর্ন এবং সামার নুডেল।

র‌্যাঙ্কড-ব্যালট পদ্ধতির ভোটে শেষ পর্যন্ত তানভীর শাহনাওয়াজ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে যেতে হয় সরাসরি ফেডারেল নির্বাচনি লড়াইয়ে।

বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক ঐতিহাসিকভাবে লিবারেলদের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তৎকালীন লিবারেল এমপি ন‍্যাট এরিস্কন স্মিথ এই আসনে ৬৭.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। এনডিপি পেয়েছিল ৬.৯ শতাংশ এবং কনজারভেটিভরা ২৩.৫ শতাংশ। এরিস্কন-স্মিথ পরবর্তীতে পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ইলেকশন কানাডা ৩১ আগস্টকে ভোটের দিন নির্ধারণ করে।

তানভীরের জয় তাই একদিকে লিবারেলদের আসন ধরে রাখার বিজয়, অন্যদিকে তার ব্যক্তিগত দীর্ঘদিনের কমিউনিটি-ভিত্তিক রাজনীতিরও স্বীকৃতি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশি কমিউনিটি কানাডাতে পেল দ্বিতীয় এমপি

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ তানভীর শাহনাওয়াজ। টরন্টোর গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক- এর উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পেছনে ফেলে কানাডার পার্লামেন্টের নতুন সদস্য হিসেবে তানভীর শাহনাওয়াজ নির্বাচিত হন।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, তানভীর শাহনাওয়াজ পেয়েছেন ১৮,৩৬১ ভোট বা ৫৫.৭ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮,৫১২ ভোট বা ২৫.৮ শতাংশ। কনজারভেটিভ প্রার্থী জিম সারবস পেয়েছেন ৫,১১৬ ভোট বা ১৫.৫ শতাংশ। গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভস পেয়েছেন ১.৭ শতাংশ ভোট। মোট ২০০টি পোলের সবকটির ফলাফল রিপোর্ট হওয়ার পর এই ফল প্রকাশ করা হয়।

তানভীর শাহনাওয়াজের গল্পটা অন্যরকম। তিনি এই নির্বাচনি এলাকাতেই বড় হয়েছেন। তার জন্ম ও শৈশব কেটেছে টরন্টোর অতি পরিচিত ক্রিসেন্ট টাউন এলাকায়। তার বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় আসেন তার জন্মের সময়ের কাছাকাছি।

তানভীর কানাডার স্বনামধন্য‍্য ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর প্রায় এক দশক তিনি সাবেক লিবারেল এমপি ন‍্যাথানিয়েল এরিস্কন স্মিথের সঙ্গে কাজ করেন। এক সময় তিনি তার কন্সটিটিউএনসি অফিস ম‍্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি স্বল্প মেয়াদি হাউজিং মন্ত্রী এরিস্কন স্মিথ-এর দায়িত্বকালে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করেন।

রাজনীতিতে তার প্রবেশ হঠাৎ করে নয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন তানভীর। তিনি টেইলর- মেসি এন্ড ওকরিজ কমিউনিটি রেসপন্স টীমের কো-চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিসেন্ট টাউনের বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টার ৫৫ এবং গ্র্যান্ড এ.এম.ই চার্চের সঙ্গে খাদ্য বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।

উপনির্বাচনের আগে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার জন্যও তানভীরকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়। ১৮ জুলাইয়ের মনোনয়ন নির্বাচনে মোট ৮৭৩টি ব্যালট গণনা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের সাবেক প্রাদেশিক সংসদ সদস্য (এমপিপি) আর্থার পটস, পরিবেশবিষয়ক আইনজীবী ও সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্লেয়ার সিবোর্ন এবং সামার নুডেল।

র‌্যাঙ্কড-ব্যালট পদ্ধতির ভোটে শেষ পর্যন্ত তানভীর শাহনাওয়াজ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে যেতে হয় সরাসরি ফেডারেল নির্বাচনি লড়াইয়ে।

বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক ঐতিহাসিকভাবে লিবারেলদের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তৎকালীন লিবারেল এমপি ন‍্যাট এরিস্কন স্মিথ এই আসনে ৬৭.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। এনডিপি পেয়েছিল ৬.৯ শতাংশ এবং কনজারভেটিভরা ২৩.৫ শতাংশ। এরিস্কন-স্মিথ পরবর্তীতে পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়। ইলেকশন কানাডা ৩১ আগস্টকে ভোটের দিন নির্ধারণ করে।

তানভীরের জয় তাই একদিকে লিবারেলদের আসন ধরে রাখার বিজয়, অন্যদিকে তার ব্যক্তিগত দীর্ঘদিনের কমিউনিটি-ভিত্তিক রাজনীতিরও স্বীকৃতি।