ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেরা প্রতিরোধে ৫১ লাখ মানুষকে দেওয়া হবে মুখে খাওয়ার টিকা

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক

কলেরা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন—ওসিভি) দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪টি উপজেলা ও থানা এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে।

কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায়ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক বছর বা তার বেশি বয়সী উপযুক্ত ব্যক্তিরা এ টিকা নিতে পারবেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবেন না।

দুই ডোজে সম্পন্ন হবে টিকাদান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে ২২ আগস্ট থেকে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কলেরা থেকে কার্যকর সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে।

সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, কলেরার উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে

টিকা নিতে আগ্রহী উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ড তৈরির সুযোগ থাকবে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে কাজে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। তাই নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো টিকা নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজও সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে শুধু টিকা নয়, কলেরা প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কলেরা প্রতিরোধে ৫১ লাখ মানুষকে দেওয়া হবে মুখে খাওয়ার টিকা

আপডেট সময় ০৩:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

কলেরা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন—ওসিভি) দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪টি উপজেলা ও থানা এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে।

কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায়ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক বছর বা তার বেশি বয়সী উপযুক্ত ব্যক্তিরা এ টিকা নিতে পারবেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবেন না।

দুই ডোজে সম্পন্ন হবে টিকাদান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানিয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে ২২ আগস্ট থেকে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কলেরা থেকে কার্যকর সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে।

সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, কলেরার উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে

টিকা নিতে আগ্রহী উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ড তৈরির সুযোগ থাকবে, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে কাজে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর। তাই নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো টিকা নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজও সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে শুধু টিকা নয়, কলেরা প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।