ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

কাগজের খবর ডেস্ক:

সুখবর পেলেন হাসান-তামিমরা

বাংলাদেশ ডারউইনে চালকের আসনে ছিল একেবারে প্রথম দিন থেকেই। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবস্থানটা ক্রমেই শক্ত হয়েছে। দর্শক সমর্থকদের অপেক্ষাও ছিল বহুক্ষণ, বহু দিন ধরে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বাংলাদেশ ইতিহাসটা গড়েই ফেলল। অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে। অজি মুল্লুকে প্রথমবার তাদেরই ধসিয়ে দিয়ে জেতার দারুণ স্বাদ এসে ধরা দিল ইন্দ্রিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টাইগাররা যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর শেষ পর্যন্ত বহু কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?

প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট শিকারে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মিরাজের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংসের পরও অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। এতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে ফাইফার তুলে নেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে দলীয় ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

আপডেট সময় ০৬:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ডারউইনে চালকের আসনে ছিল একেবারে প্রথম দিন থেকেই। সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবস্থানটা ক্রমেই শক্ত হয়েছে। দর্শক সমর্থকদের অপেক্ষাও ছিল বহুক্ষণ, বহু দিন ধরে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, বাংলাদেশ ইতিহাসটা গড়েই ফেলল। অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে। অজি মুল্লুকে প্রথমবার তাদেরই ধসিয়ে দিয়ে জেতার দারুণ স্বাদ এসে ধরা দিল ইন্দ্রিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টাইগাররা যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ।

ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর শেষ পর্যন্ত বহু কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট অবশ্য মাঝে নাড়িয়ে দিয়েছিল দলকে। এরপরই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আবির্ভাব। প্রস্তুতি ম্যাচে দলের ব্যর্থতার মাঝে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এবার তিনি সেঞ্চুরি না করলেও যা করলেন, তা দলকে এনে দিল বিশাল এক লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২২৮ এর চেয়ে বড় লিড বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসেই পেয়েছে মোটে দুই বার, তাও আয়ারল্যান্ড আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার সে তেঁতো স্বাদটা বাংলাদেশ দিল অস্ট্রেলিয়াকে; বিশালত্বটা বুঝুন তাহলে?

প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেট শিকারে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মিরাজের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংসের পরও অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। এতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে ফাইফার তুলে নেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম এবার রানের খাতা খুলতে পারেননি। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে দলীয় ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়। তাও ৪ দিন দাপট ধরে রেখে, অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে! বাংলাদেশ দল ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে বটে!