ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের নতুন বার্তা? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব সংবাদ :

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ও হাইকমিশনারের সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের অভিযোগ এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয় উল্লেখযোগ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আজকের বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও গঠনমূলক ও বাস্তবমুখী পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে কারণে আজকের বৈঠকে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের বিশেষ নজর থাকবে।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। ফলে আলোচনার প্রকৃত গুরুত্ব ও সম্ভাব্য অগ্রাধিকার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের নতুন বার্তা? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেট সময় ০২:৩১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী ও হাইকমিশনারের সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের অভিযোগ এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয় উল্লেখযোগ্য।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আজকের বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক আরও গঠনমূলক ও বাস্তবমুখী পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সে কারণে আজকের বৈঠকে ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের বিশেষ নজর থাকবে।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে। ফলে আলোচনার প্রকৃত গুরুত্ব ও সম্ভাব্য অগ্রাধিকার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।