ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট: ‘অজুহাত নয়, সমাধানেই জোর’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে সরাসরি অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে কোনো ধরনের অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ সরকারের নেই। সমস্যাগুলো স্বীকার করেই সরকার সমাধানের পথ খুঁজছে এবং সেই লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে এ খাতকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি জানান, সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করছে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে এগিয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়াও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে।

জনগণের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে। মানুষের কষ্ট লাঘব করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে একটি দুর্বল অর্থনীতি, চাপে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের ছিল না; এটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফাকে তিনি ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সনদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জনগণ এই কর্মপরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন.

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট: ‘অজুহাত নয়, সমাধানেই জোর’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৪:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে সরাসরি অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে কোনো ধরনের অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ সরকারের নেই। সমস্যাগুলো স্বীকার করেই সরকার সমাধানের পথ খুঁজছে এবং সেই লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে এ খাতকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি জানান, সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করছে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে এগিয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়াও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে।

জনগণের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে সংকট নিরসনের চেষ্টা করছে। মানুষের কষ্ট লাঘব করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে একটি দুর্বল অর্থনীতি, চাপে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভক্ত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের ছিল না; এটি ছিল দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফাকে তিনি ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সনদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জনগণ এই কর্মপরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন.