ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট চাঁদের বুকে ধেয়ে আসছে ‘পাঁচতলা ভবনের’ সমান মহাকাশ বর্জ্য,পৃথিবীতে প্রভাব পড়বে কি?

নিজস্ব সংবাদ :

মহাকাশে দীর্ঘদিন ভেসে থাকার পর এবার চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানতে যাচ্ছে মানুষের তৈরি বিশাল এক রকেটের পরিত্যক্ত অংশ। গবেষকদের মতে, প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান আকারের এই ধাতব অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সংঘটিত হতে যাওয়া এই আঘাতের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

কীভাবে চাঁদের দিকে গেল রকেটের অংশ?

স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট চন্দ্রযান বহন করার পর এর ওপরের অংশটি মহাকাশে দীর্ঘ সময় কক্ষপথে ঘুরছিল। পরে চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে সেটি ধীরে ধীরে চাঁদের দিকে সরে আসে এবং এখন সংঘর্ষের পথে রয়েছে।

মহাকাশবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি চাঁদের আলোকিত অঞ্চলের আইন্স্টাইন গহ্বরের কাছাকাছি আঘাত করতে পারে। এতে প্রায় ২৭ মিটার প্রশস্ত এবং ৫ মিটার গভীর নতুন একটি গহ্বর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধূলিকণার মেঘ উঠতে পারে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উইলিয়াম জো জানান, সংঘর্ষের পর চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ভাঙা শিলা মহাশূন্যে ছিটকে যেতে পারে। এই ধূলিকণার মেঘ প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, আঘাতের মুহূর্তে তৈরি হওয়া আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হবে। তবে শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে পৃথিবী এবং মহাকাশ উভয় স্থান থেকেই কয়েক মিনিট ধরে উৎক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই

বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন যে, চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় এই সংঘর্ষের বিস্ফোরণ পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি তৈরি করবে না। ভবিষ্যতের মানব চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

ঘটনার আগে ও পরে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য নাসা তাদের লুনার রিকনসাইস্যান্স অরবিটার (LRO) ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে নতুন গহ্বরের আকার, ধূলিকণার বিস্তার এবং পৃষ্ঠের পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এই ঘটনাকে শুধু একটি মহাজাগতিক সংঘর্ষ হিসেবেই দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। বরং এটি মহাকাশে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ বর্জ্য (Space Debris) সমস্যাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। পৃথিবীর কক্ষপথে পরিত্যক্ত রকেট, স্যাটেলাইটের ভাঙা অংশ ও অন্যান্য ধাতব বস্তু ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং চন্দ্র গবেষণার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব প্রতিবেদন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৫ আগস্ট চাঁদের বুকে ধেয়ে আসছে ‘পাঁচতলা ভবনের’ সমান মহাকাশ বর্জ্য,পৃথিবীতে প্রভাব পড়বে কি?

আপডেট সময় ০৯:৫২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মহাকাশে দীর্ঘদিন ভেসে থাকার পর এবার চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানতে যাচ্ছে মানুষের তৈরি বিশাল এক রকেটের পরিত্যক্ত অংশ। গবেষকদের মতে, প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান আকারের এই ধাতব অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়বে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সংঘটিত হতে যাওয়া এই আঘাতের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

কীভাবে চাঁদের দিকে গেল রকেটের অংশ?

স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট চন্দ্রযান বহন করার পর এর ওপরের অংশটি মহাকাশে দীর্ঘ সময় কক্ষপথে ঘুরছিল। পরে চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে সেটি ধীরে ধীরে চাঁদের দিকে সরে আসে এবং এখন সংঘর্ষের পথে রয়েছে।

মহাকাশবিজ্ঞানীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রকেটের অংশটি চাঁদের আলোকিত অঞ্চলের আইন্স্টাইন গহ্বরের কাছাকাছি আঘাত করতে পারে। এতে প্রায় ২৭ মিটার প্রশস্ত এবং ৫ মিটার গভীর নতুন একটি গহ্বর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধূলিকণার মেঘ উঠতে পারে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উইলিয়াম জো জানান, সংঘর্ষের পর চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ভাঙা শিলা মহাশূন্যে ছিটকে যেতে পারে। এই ধূলিকণার মেঘ প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, আঘাতের মুহূর্তে তৈরি হওয়া আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী হবে। তবে শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে পৃথিবী এবং মহাকাশ উভয় স্থান থেকেই কয়েক মিনিট ধরে উৎক্ষিপ্ত ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই

বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন যে, চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় এই সংঘর্ষের বিস্ফোরণ পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি তৈরি করবে না। ভবিষ্যতের মানব চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

ঘটনার আগে ও পরে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য নাসা তাদের লুনার রিকনসাইস্যান্স অরবিটার (LRO) ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে নতুন গহ্বরের আকার, ধূলিকণার বিস্তার এবং পৃষ্ঠের পরিবর্তনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এই ঘটনাকে শুধু একটি মহাজাগতিক সংঘর্ষ হিসেবেই দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। বরং এটি মহাকাশে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ বর্জ্য (Space Debris) সমস্যাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। পৃথিবীর কক্ষপথে পরিত্যক্ত রকেট, স্যাটেলাইটের ভাঙা অংশ ও অন্যান্য ধাতব বস্তু ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং চন্দ্র গবেষণার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিজস্ব প্রতিবেদন